বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলার, ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ডসহ প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বিভিন্ন ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারের দর অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। ২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবরের জন্য দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মার্কিন ডলারের মূল্য ১২৩ টাকা ৬ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে, প্রতি ইউরোর মূল্য ১৩৮ টাকা ৫ পয়সা থেকে ১৩৮ টাকা ২৮ পয়সা এবং প্রতি ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য ১৬৩ টাকা ৭ পয়সা থেকে ১৬৩ টাকা ৯৩ পয়সা।
বিদেশে যাতায়াত, আমদানি-রপ্তানি, আন্তর্জাতিক লেনদেন, প্রবাসীদের অর্থ পাঠানো এবং শিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়াশোনার খরচ হিসাব করার ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিনের দর পরিবর্তনের কারণে একই পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা কেনা বা বিক্রি করতে একেক দিনে ভিন্ন অঙ্কের টাকা প্রয়োজন হতে পারে।
Table of Contents
আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের জন্য সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে প্রধান আটটি বৈদেশিক মুদ্রার দর নিচে তুলে ধরা হলো।
| বৈদেশিক মুদ্রার নাম | মুদ্রার কোড | প্রতি এককের মূল্য (বাংলাদেশি টাকা) |
|---|---|---|
| মার্কিন ডলার | USD | ১২৩.০৬–১২৩.৫০ |
| ইউরো | EUR | ১৩৮.০৫–১৩৮.২৮ |
| ব্রিটিশ পাউন্ড | GBP | ১৬৩.০৭–১৬৩.৯৩ |
| সৌদি রিয়াল | SAR | ৩২.০০ |
| সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম | AED | ৩৩.০০ |
| ভারতীয় রুপি | INR | ১.২৭–১.২৯ |
| সিঙ্গাপুর ডলার | SGD | ৯৬.২১ |
| মালয়েশীয় রিঙ্গিত | MYR | ২৮.১০ |
দ্রষ্টব্য: এসব দর সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এগুলোকে সব ব্যাংকের নিশ্চিত ক্রয় বা বিক্রয়মূল্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
ডলার, ইউরো ও পাউন্ডের দর কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ব্যবহার ব্যাপক। জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ডলারের বিনিময় হার ব্যবসার ব্যয় নির্ধারণে প্রভাব ফেলে। ডলারের দর বাড়লে আমদানিকারকদের একই পরিমাণ পণ্য কিনতে বেশি টাকা ব্যয় করতে হতে পারে। এর প্রভাব পণ্যের উৎপাদন খরচ ও বাজারদরেও পড়তে পারে। তবে চূড়ান্ত মূল্য নির্ভর করে আন্তর্জাতিক পণ্যমূল্য, পরিবহন ব্যয়, শুল্ক ও অন্যান্য খরচের ওপরও।
ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ডের দর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ এবং ব্যবসায়িক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিদেশে টিউশন ফি বা জীবনযাত্রার ব্যয় পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট মুদ্রার বিনিময় হার যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রবাসীদের জন্য সৌদি রিয়াল ও দিরহামের গুরুত্ব
বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী কর্মী সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে কাজ করেন। এসব দেশ থেকে দেশে অর্থ পাঠানোর সময় রিয়াল ও দিরহামের বিনিময় হার প্রবাসী পরিবারগুলোর প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
তবে শুধু ঘোষিত মুদ্রার দর দেখেই অর্থ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ব্যাংক বা অনুমোদিত অর্থ স্থানান্তর প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত বিনিময় হার, লেনদেনের ফি এবং অর্থ পৌঁছানোর শর্তও বিবেচনায় নিতে হবে। একইভাবে, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য রিঙ্গিত ও সিঙ্গাপুর ডলারের দর প্রাসঙ্গিক।
বিনিময় হার নির্ধারণে যেসব বিষয় মাথায় রাখতে হবে
বৈদেশিক মুদ্রার বাজারদর আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা ও জোগান, সংশ্লিষ্ট দেশের সুদের হার, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাবে পরিবর্তিত হয়। বাংলাদেশে ব্যাংকভেদে বৈদেশিক মুদ্রার ক্রয় ও বিক্রয়মূল্যেও পার্থক্য থাকতে পারে।
এখানে উল্লেখিত কিছু মুদ্রার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একক দর দেওয়া হয়েছে, আবার ডলার, ইউরো, পাউন্ড ও ভারতীয় রুপির ক্ষেত্রে একটি মূল্যসীমা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এসব সংখ্যাকে একই ধরনের বাজারদর হিসেবে সরাসরি তুলনা করার আগে কোনটি ক্রয়মূল্য, কোনটি বিক্রয়মূল্য এবং কোনটি মধ্যবাজারের আনুমানিক দর—তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
বিদেশি মুদ্রা কেনা, বিক্রি বা দেশে অর্থ পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কিংবা অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ দর যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি। মনে রাখতে হবে, ১৮ অক্টোবরের জন্য উল্লেখিত হারগুলো নির্দেশক তথ্য; লেনদেনের সময় প্রকৃত বিনিময়মূল্য ভিন্ন হতে পারে।
