বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলার, ব্রিটিশ পাউন্ড, ইউরোসহ বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার জানা প্রবাসী আয়, আমদানি-রপ্তানি, বিদেশে পড়াশোনা, চিকিৎসা ও ভ্রমণের ব্যয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি থেকে শুরু করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—বিভিন্ন পর্যায়ের লেনদেনে এসব হার সরাসরি বা পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলে।
২০২৬ সালের ২১ অক্টোবরের বিনিময় হারসংক্রান্ত প্রকাশিত তালিকায় মার্কিন ডলারের ক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা ৫৫ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা ৫৮ পয়সা উল্লেখ করা হয়েছে। ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্রয়মূল্য ১৬৪ টাকা ৬৭ পয়সা ও বিক্রয়মূল্য ১৬৪ টাকা ৭৩ পয়সা। ইউরোর ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্য ১৩৮ টাকা ৮৬ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৩৮ টাকা ৯০ পয়সা।
তবে তালিকাটির সর্বশেষ হালনাগাদের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০২৬। ফলে ২১ অক্টোবরের প্রকৃত বিনিময় হার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। প্রকাশিত হার এবং গ্রাহকের কাছে প্রযোজ্য লেনদেনের হার এক নাও হতে পারে।
Table of Contents
আটটি বৈদেশিক মুদ্রার ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার নিচে তুলে ধরা হলো।
| মুদ্রার নাম | ক্রয়মূল্য (টাকা) | বিক্রয়মূল্য (টাকা) |
|---|---|---|
| মার্কিন ডলার | ১২৩.৫৫ | ১২৩.৫৮ |
| ব্রিটিশ পাউন্ড | ১৬৪.৬৭ | ১৬৪.৭৩ |
| ইউরো | ১৩৮.৮৬ | ১৩৮.৯০ |
| ভারতীয় রুপি | ১.৩০ | ১.৩০ |
| অস্ট্রেলীয় ডলার | ৮৫.৭৯ | ৮৫.৮৯ |
| সিঙ্গাপুর ডলার | ৯৬.৫৫ | ৯৬.৫৮ |
| চীনা ইউয়ান | ১৮.৪৮ | ১৮.৪৯ |
| জাপানি ইয়েন | ০.৭৮ | ০.৭৮ |
দ্রষ্টব্য: হারগুলো সরবরাহ করা তালিকা থেকে নেওয়া। এগুলো ২১ অক্টোবরের নিশ্চিত হালনাগাদ দর—এমন নিশ্চয়তা নেই।
ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্যের পার্থক্য
বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে ক্রয়মূল্য বলতে সাধারণত ব্যাংক বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের কাছ থেকে যে দামে বিদেশি মুদ্রা কেনে, সেটিকে বোঝায়। অন্যদিকে, বিক্রয়মূল্য হলো গ্রাহকের কাছে ওই মুদ্রা বিক্রির দর।
এ কারণে বিদেশ থেকে অর্থ আসার পর তা বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর এবং বিদেশে পাঠানোর জন্য বৈদেশিক মুদ্রা কেনার ক্ষেত্রে ভিন্ন হার প্রযোজ্য হতে পারে। ব্যাংকের নির্ধারিত দর, লেনদেনের ধরন এবং প্রযোজ্য সেবামাশুলের কারণে চূড়ান্ত হিসাবেও পার্থক্য দেখা দিতে পারে।
ডলারের বিনিময় হার কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশের আমদানি বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ব্যবহার ব্যাপক। জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য আমদানির ব্যয়ের সঙ্গে ডলারের বিনিময়মূল্যের সম্পর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য কমে গেলে আমদানিকারকের স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় বাড়তে পারে। এর প্রভাব পণ্যের উৎপাদন ব্যয় ও বাজারমূল্যেও পড়তে পারে।
ব্রিটিশ পাউন্ড ও ইউরোর বিনিময় হারও বাংলাদেশের অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ কিংবা ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে এসব মুদ্রার প্রয়োজন হয়। একইভাবে অস্ট্রেলীয় ডলার ও সিঙ্গাপুর ডলারের দর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে অর্থ পাঠানো এবং ব্যয় পরিকল্পনার ক্ষেত্রে কাজে আসে।
ভারতীয় রুপি ও চীনা ইউয়ানের বিনিময় হার আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং আমদানি-রপ্তানির হিসাবেও প্রাসঙ্গিক। জাপানি ইয়েনের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যক্তিগত লেনদেনের প্রয়োজনে বিনিময়মূল্য জানা দরকার।
লেনদেনের আগে সর্বশেষ দর যাচাই জরুরি
বৈদেশিক মুদ্রা কেনা বা বিক্রির আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সর্বশেষ বিনিময় হার জেনে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে একাধিক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের দর তুলনা করলে সুবিধাজনক বিকল্প বেছে নেওয়া সম্ভব হতে পারে।
বিদেশে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি পাঠানো, চিকিৎসার খরচ মেটানো কিংবা আমদানি-রপ্তানির অর্থ পরিশোধের সময় লেনদেনের নিয়ম, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও অতিরিক্ত চার্জ সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া দরকার।
প্রকাশিত তালিকায় ১৮ অক্টোবর ২০২৬ সর্বশেষ হালনাগাদের তারিখ হিসেবে উল্লেখ থাকায় ২১ অক্টোবরের প্রকৃত বাজারদর সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। বৈদেশিক মুদ্রার হার সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে; তাই পুরোনো তালিকার ওপর নির্ভর করে আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
