২৪ অক্টোবরের মুদ্রা বিনিময় হার: ডলার ১২৩.৫৫ টাকা

বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রবাসী আয়, আমদানি-রপ্তানি এবং বিদেশে যাতায়াতের ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। ডলার, পাউন্ড, ইউরো, ভারতীয় রুপিসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মূল্য কত, তা জানা প্রয়োজন ব্যক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—উভয়ের জন্যই।

২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মুদ্রা বিনিময় হারসংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ডলারের ক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা ৫৫ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা ৫৮ পয়সা। অন্যদিকে, ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্রয়মূল্য ১৬৪ টাকা ৬৭ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৬৪ টাকা ৭৩ পয়সা। ইউরোর ক্ষেত্রে এই দুই হার যথাক্রমে ১৩৮ টাকা ৮৬ পয়সা ও ১৩৮ টাকা ৯০ পয়সা।

প্রকাশিত তালিকায় অস্ট্রেলীয় ডলার, সিঙ্গাপুর ডলার, চীনা ইউয়ান ও জাপানি ইয়েনের বিনিময় হারও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হার মুদ্রা কেনাবেচার ক্ষেত্রে প্রাথমিক ধারণা দিতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, তালিকায় সর্বশেষ হালনাগাদের তারিখ দেওয়া হয়েছে ২৩ অক্টোবর ২০২৬। ফলে ২৪ অক্টোবরের প্রকৃত লেনদেনের হার যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এই তারিখের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি।

আজকের বৈদেশিক মুদ্রার ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য

প্রকাশিত বিনিময় হার অনুযায়ী, বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মূল্য নিচে তুলে ধরা হলো।

মুদ্রার নামক্রয়মূল্য (টাকা)বিক্রয়মূল্য (টাকা)
মার্কিন ডলার১২৩.৫৫১২৩.৫৮
ব্রিটিশ পাউন্ড১৬৪.৬৭১৬৪.৭৩
ইউরো১৩৮.৮৬১৩৮.৯০
ভারতীয় রুপি১.৩০১.৩০
অস্ট্রেলীয় ডলার৮৫.৭৯৮৫.৮৯
সিঙ্গাপুর ডলার৯৬.৫৫৯৬.৫৮
চীনা ইউয়ান১৮.৪৮১৮.৪৯
জাপানি ইয়েন০.৭৮০.৭৮

তথ্যসূত্র: সরবরাহ করা বিনিময় হার তালিকা। সর্বশেষ হালনাগাদ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬। প্রতিটি মুদ্রার একক হিসেবে সংশ্লিষ্ট মুদ্রার এক ইউনিট ধরা হয়েছে; জাপানি ইয়েনের ক্ষেত্রে প্রকাশিত তালিকায় এককের ভিত্তি আলাদাভাবে উল্লেখ নেই।

ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্য বলতে কী বোঝায়?

বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বুঝতে ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্যের পার্থক্য জানা জরুরি। সাধারণভাবে, কোনো ব্যাংক বা অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের কাছ থেকে বিদেশি মুদ্রা যে দামে কেনে, সেটি তার ক্রয়মূল্য। আর গ্রাহকের কাছে বিদেশি মুদ্রা যে দামে বিক্রি করে, সেটি বিক্রয়মূল্য।

যেমন, প্রকাশিত তালিকায় মার্কিন ডলারের ক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা ৫৫ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা ৫৮ পয়সা। এই হার অনুযায়ী, এক ডলারের জন্য দুই মূল্যের মধ্যে ব্যবধান তিন পয়সা। তবে বাস্তবে কোনো গ্রাহক কত টাকায় ডলার কিনতে বা বিক্রি করতে পারবেন, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রযোজ্য হার ও লেনদেনের শর্তের ওপর নির্ভর করতে পারে।

মুদ্রার বিনিময় হার কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ, আমদানি ব্যয়, বিদেশি ঋণের কিস্তি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিদেশে পড়াশোনা বা ভ্রমণের খরচের সঙ্গে মুদ্রার বিনিময় হারের সম্পর্ক রয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে, বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করতে কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ডলারে মূল্য পরিশোধ করতে হলে ডলারের বিনিময় হার তার মোট ব্যয়ের হিসাবকে প্রভাবিত করে। একইভাবে, বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি দেওয়া, চিকিৎসার ব্যয় মেটানো কিংবা ভ্রমণের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা কেনার ক্ষেত্রেও বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ।

প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রেও টাকার বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রার মূল্য বিবেচ্য। তবে প্রবাসী আয় পাঠানোর সময় ব্যবহৃত বিনিময় হার এবং সংশ্লিষ্ট সেবাদাতার ফি বা প্রযোজ্য অন্যান্য চার্জের কারণে প্রাপক যে পরিমাণ টাকা পান, তা ভিন্ন হতে পারে।

লেনদেনের আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হার, বাণিজ্যিক ব্যাংকের গ্রাহকভিত্তিক হার এবং অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের হার সব সময় এক নাও হতে পারে। নগদ বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা, আন্তর্জাতিক কার্ডে লেনদেন কিংবা ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হার ও চার্জেও পার্থক্য থাকতে পারে।

তাই বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সর্বশেষ দর জেনে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে ডলার, পাউন্ড ও ইউরোর মতো বহুল ব্যবহৃত মুদ্রার ক্ষেত্রে সামান্য হারের পার্থক্যও বড় অঙ্কের লেনদেনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

সতর্কতা: এখানে দেওয়া হার সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। তালিকাটি ২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সর্বশেষ হালনাগাদ হওয়ার কথা উল্লেখ থাকায়, একে ২৪ অক্টোবরের সব ব্যাংক বা মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানে কার্যকর নিশ্চিত হার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। লেনদেনের আগে সর্বশেষ প্রযোজ্য হার যাচাই করুন।

মন্তব্য করুন