বিশ্ব অর্থনীতির চলমান পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও বৈদেশিক লেনদেনের পরিধি ক্রমাগত বড় হচ্ছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক চাহিদাকে সচল রাখতে এবং আমদানির ব্যয় মেটাতে প্রতিদিন ওঠানামা করছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার মান। দেশীয় বাজারে মার্কিন ডলারসহ আন্তর্জাতিক প্রধান প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মূল্যে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার (০৮ জুলাই ২০২৬) আন্তর্জাতিক বাজারের মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র সামনে এসেছে।
আজকের বাজারে বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার দর কেমন যাচ্ছে, তা নিচের তালিকা থেকে দেখে নেওয়া যাক।
প্রধান প্রধান মুদ্রার আজকের বিনিময় হার
| ক্র. নং. | মুদ্রার নাম | বাংলাদেশি টাকা (ক্রয়/বিক্রয় গড়) |
| ১. | ইউএস ডলার | ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা |
| ২. | ইউরো | ১৪০ টাকা ১৮ পয়সা |
| ৩. | ব্রিটিশ পাউন্ড | ১৬৪ টাকা ০২ পয়সা |
| ৪. | কানাডিয়ান ডলার | ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা |
| ৫. | অস্ট্রেলিয়ান ডলার | ৮৫ টাকা ১১ পয়সা |
| ৬. | সিঙ্গাপুরি ডলার | ৯৪ টাকা ৯৯ পয়সা |
| ৭. | কুয়েতি দিনার | ৩৯৮ টাকা ৫৬ পয়সা |
| ৮. | সৌদি রিয়াল | ৩৩ টাকা ১২ পয়সা |
| ৯. | আরব আমিরাতের দিরহাম | ৩৩ টাকা ৬৪ পয়সা |
| ১০. | কাতারি রিয়াল | ৩৩ টাকা ৮১ পয়সা |
| ১১. | মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত | ৩০ টাকা ৩৩ পয়সা |
| ১২. | চাইনিজ ইয়েন | ১৮ টাকা ০৫ পয়সা |
| ১৩. | ভারতীয় রুপি | ১ টাকা ২৯ পয়সা |
আর্থিক খাতের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং বৈধ পথে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলাবাজার ও অফিশিয়াল রেটের মধ্যকার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। বিগত এক মাসে মার্কিন ডলারের গড় বিনিময় হার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে। মুদ্রাবাজারের এই স্থিতিশীলতা দেশের আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা সাজাতে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মুদ্রা, বিশেষ করে রিয়াল ও দিরহামের চড়া দাম রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য ভালো রিটার্ন বয়ে আনছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক মুদ্রা ইউরো এবং যুক্তরাজ্যের পাউন্ডের শক্তিশালী অবস্থান আমদানির খরচ কিছুটা বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
