জাতীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল ভিত্তি হলো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সর্বোচ্চ অভিভাবক বাংলাদেশ ব্যাংক এই রিজার্ভ সংক্রান্ত সবশেষ হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৪৫৭ দশমিক ০২ মিলিয়ন ডলারে, যা প্রায় ৩৬ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ।
আজ সংবাদ ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রিজার্ভের এই হিসাব নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক দেনাপাওনা মেটানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে রিজার্ভের হিসাব পর্যালোচনা করে থাকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২৮ জুলাই পর্যন্ত সার্বিক গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩৬,৪৫৭.০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ‘ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল’ বা বিপিএম-৬ (BPM6) হিসাব পদ্ধতি অনুসরণে নিট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৭ ৪৮ দশমিক ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
সংস্থার নিয়মিত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর আগের সপ্তাহে অর্থাৎ গত ২৩ জুলাই পর্যন্ত দেশের মোট গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ হাজার ৪৮১ দশমিক ০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর ওই একই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে নিট রিজার্ভের অঙ্ক ছিল ৩১ হাজার ৭৮৪ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পাঁচ দিনের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক লেনদেন ও বিভিন্ন আমদানিকৃত পণ্যের এলসি দায় পরিশোধের ফলে রিজার্ভের অঙ্কে কিছুটা ওঠানামা দেখা গেছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জানানো হয়েছে, সামান্য এই হ্রাস-বৃদ্ধি দেশের চলমান বৈদেশিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমের একটি স্বাভাবিক ও অতি সাধারণ প্রক্রিয়া।
বিশ্বজুড়ে আইএমএফের নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিকেই কোনো দেশের প্রকৃত নিট রিজার্ভের প্রধান ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়। মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে থাকা মোট রিজার্ভের অঙ্ক থেকে বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি ঋণ, এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) নিয়মিত বিল, বৈদেশিক তহবিলের আইনি বাধ্যবাধকতা ও অন্যান্য চলতি দায় বাদ দেওয়ার পর এই প্রকৃত নিট রিজার্ভের হিসাব কষা হয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই নিট রিজার্ভের পরিমাণই দেশের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও জরুরি আমদানি ব্যয় মেটানোর মূল সক্ষমতা নির্দেশ করে।
আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের রিজার্ভের বর্তমান এই অবস্থান আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভাবমূর্তি বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। রেমিট্যান্স প্রেরণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আগ্রহ, রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিকতা এবং বাজারে ডলারের প্রবাহ সুসংহত রাখা সম্ভব হলে আগামী দিনগুলোতে এই রিজার্ভ আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত এই রিজার্ভের তথ্য মনিটর করছে।
