২৭ আগস্টের বৈদেশিক মুদ্রার নতুন বিনিময় হার

বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে প্রতিদিনই টাকার বিপরীতে বিভিন্ন বিদেশি মুদ্রার দর পরিবর্তিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, প্রবাসী আয়, বৈদেশিক লেনদেন, মুদ্রার চাহিদা ও সরবরাহ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর এসব হারের ওঠানামা নির্ভর করে। বিদেশে পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ, পণ্য আমদানি কিংবা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য তাই প্রতিদিনের বিনিময় হার জানা গুরুত্বপূর্ণ।

২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলার, ব্রিটিশ পাউন্ড, ইউরো, ভারতীয় রুপি, অস্ট্রেলীয় ডলার, সিঙ্গাপুর ডলার, চীনা ইউয়ান ও জাপানি ইয়েনের নির্ধারিত হার পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর থাকে মার্কিন ডলারের দিকে। কারণ বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের বড় একটি অংশ ডলারনির্ভর।

প্রকাশিত হিসাবে, আজ প্রতি মার্কিন ডলারের কেনার হার ১২১ টাকা ৯৫ পয়সা। বিক্রির হার ১২২ টাকা ২০ পয়সা। অর্থাৎ দুই হারের মধ্যে ব্যবধান ২৫ পয়সা। ডলারের এই দর আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, বিদেশে অর্থ পাঠানো ব্যক্তি এবং বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্ষেত্রেও টাকার বিপরীতে তুলনামূলকভাবে বেশি মূল্য দেখা যাচ্ছে। প্রতি পাউন্ডের কেনার হার ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা এবং বিক্রির হার ১৬৬ টাকা ৩১ পয়সা। বিদেশে উচ্চশিক্ষা, ভ্রমণ বা যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এই হার সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

ইউরোর কেনার হার ১৪২ টাকা ৪০ পয়সা এবং বিক্রির হার ১৪২ টাকা ৭১ পয়সা। ইউরোপীয় দেশগুলোতে পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ এবং ব্যবসায়িক লেনদেনের জন্য ইউরোর চাহিদা থাকায় বাংলাদেশি গ্রাহকদের কাছেও এই মুদ্রার বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতীয় রুপির ক্ষেত্রে কেনা ও বিক্রির হার একই—প্রতি রুপি ১ টাকা ২৭ পয়সা। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি চিকিৎসা, শিক্ষা ও ভ্রমণের কারণে দুই দেশের মুদ্রার বিনিময়ও নিয়মিত হয়ে থাকে।

অস্ট্রেলীয় ডলারের কেনার হার ৮৬ টাকা ৮৬ পয়সা এবং বিক্রির হার ৮৭ টাকা ৯ পয়সা। সিঙ্গাপুর ডলারের ক্ষেত্রে কেনার হার ৯৫ টাকা ৯৩ পয়সা এবং বিক্রির হার ৯৬ টাকা ১৩ পয়সা। চীনা ইউয়ানের কেনার হার ১৮ টাকা ১১ পয়সা এবং বিক্রির হার ১৮ টাকা ১৫ পয়সা।

জাপানি ইয়েনের ক্ষেত্রে প্রতি ইয়েনের কেনার হার ৭৭ পয়সা। তবে দেওয়া তথ্যে ইয়েনের বিক্রয় হার উল্লেখ নেই। তাই অনুল্লেখিত হার অনুমান করে কোনো সংখ্যা যোগ করা হয়নি।

২৭ আগস্ট ২০২৬-এর প্রকাশিত বিনিময় হার

মুদ্রাকেনার হারবিক্রির হার
মার্কিন ডলার১২১.৯৫ টাকা১২২.২০ টাকা
ব্রিটিশ পাউন্ড১৬৫.৮৮ টাকা১৬৬.৩১ টাকা
ইউরো১৪২.৪০ টাকা১৪২.৭১ টাকা
ভারতীয় রুপি১.২৭ টাকা১.২৭ টাকা
অস্ট্রেলীয় ডলার৮৬.৮৬ টাকা৮৭.০৯ টাকা
সিঙ্গাপুর ডলার৯৫.৯৩ টাকা৯৬.১৩ টাকা
চীনা ইউয়ান১৮.১১ টাকা১৮.১৫ টাকা
জাপানি ইয়েন০.৭৭ টাকাউল্লেখ নেই

কেনা ও বিক্রির হারে পার্থক্য

বৈদেশিক মুদ্রার ‘কেনার হার’ এবং ‘বিক্রির হার’ এক নয়। কোনো ব্যাংক বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা যে দরে কিনছে, সেটিই সাধারণভাবে কেনার হার। আর গ্রাহকের কাছে সেই মুদ্রা যে দরে বিক্রি করা হচ্ছে, সেটি বিক্রির হার। এই দুই হারের পার্থক্যকে মুদ্রা লেনদেনের স্বাভাবিক ব্যবধান হিসেবে দেখা হয়।

মুদ্রার চাহিদা ও সরবরাহ, বাজারের পরিস্থিতি, লেনদেনের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নীতির কারণে এই ব্যবধান পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে প্রকাশিত কোনো বিনিময় হার দেখেই ধরে নেওয়া ঠিক নয় যে সব ব্যাংক বা মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানে একই দরে লেনদেন হবে।

ডলারের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। আমদানিকারকদের পণ্য বা কাঁচামাল কেনার ব্যয় ডলারের দরের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে পারে। ডলারের মূল্য বাড়লে একই পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা কিনতে বেশি বাংলাদেশি টাকা প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রেও বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিদেশ থেকে আসা অর্থ স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তরের সময় প্রাপ্ত টাকার পরিমাণ হারের ওপর নির্ভর করে।

বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া ব্যক্তিদের জন্যও দিনের মুদ্রার দর জানা কাজে আসে। বিমানভাড়া, শিক্ষা বা চিকিৎসা ব্যয়, আবাসন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক খরচ মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হলে আগেভাগে সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব করা সহজ হয়।

তবে বাস্তবে মুদ্রা কেনা বা বিক্রির সময় শুধু প্রকাশিত হার নয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ কার্যকর দর, কমিশন ও অন্যান্য প্রযোজ্য খরচও যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে একই দিনের মধ্যেও লেনদেনের হার বদলাতে পারে।

২৭ আগস্টের এই হিসাব তাই দিনের প্রকাশিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। প্রকৃত লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সর্বশেষ হার নিশ্চিত করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।

মন্তব্য করুন