আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রবাসী আয়, আমদানি-রপ্তানি ও বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিস্তৃত হওয়ায় ডলার, ইউরো, পাউন্ডসহ বিভিন্ন বিদেশি মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য সম্পর্কে আগ্রহ রয়েছে ব্যবসায়ী, প্রবাসী পরিবার, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের।
আজ রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এক মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য ১২২ টাকা ১০ পয়সা। ইউরোর মূল্য ১৩৭ টাকা ৮৮ পয়সা এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের দাম ১৬২ টাকা ৮৭ পয়সা। এ ছাড়া অস্ট্রেলীয় ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৫ টাকা ৬০ পয়সা এবং সিঙ্গাপুরি ডলারের মূল্য ৯৬ টাকা ৮ পয়সা।
মুদ্রাভেদে বিনিময় হারে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। ভারতীয় এক রুপির মূল্য ১ টাকা ২৭ পয়সা এবং জাপানি এক ইয়েনের মূল্য ৭৭ পয়সা।
Table of Contents
আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার নিচে দেওয়া হলো।
| বৈদেশিক মুদ্রা | মুদ্রার কোড | বাংলাদেশি টাকায় মূল্য |
|---|---|---|
| মার্কিন ডলার | USD | ১২২ টাকা ১০ পয়সা |
| ইউরো | EUR | ১৩৭ টাকা ৮৮ পয়সা |
| ব্রিটিশ পাউন্ড | GBP | ১৬২ টাকা ৮৭ পয়সা |
| ভারতীয় রুপি | INR | ১ টাকা ২৭ পয়সা |
| জাপানি ইয়েন | JPY | ৭৭ পয়সা |
| অস্ট্রেলীয় ডলার | AUD | ৮৫ টাকা ৬০ পয়সা |
| সিঙ্গাপুরি ডলার | SGD | ৯৬ টাকা ০৮ পয়সা |
সূত্র: গুগলে প্রদর্শিত বিনিময় হারের তথ্য।
ডলার ও পাউন্ডের দর কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয়। ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য কমলে আমদানিকারকদের একই পরিমাণ ডলার সংগ্রহ করতে বেশি টাকা ব্যয় করতে হতে পারে। এর প্রভাব উৎপাদন ব্যয় ও পণ্যের বাজারমূল্যেও পড়তে পারে, যদিও চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করে পণ্যের ধরন, বাজার পরিস্থিতি ও অন্যান্য ব্যয়ের ওপর।
ব্রিটিশ পাউন্ড ও ইউরোর বিনিময় হারও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অর্থ পাঠানো, শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি পরিশোধ এবং চিকিৎসা বা ভ্রমণের ব্যয় নির্ধারণে এসব মুদ্রার দর বিবেচনায় নিতে হয়।
অন্যদিকে, ভারত বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ও বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি, চিকিৎসা, পর্যটন ও শিক্ষার প্রয়োজনে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ভারতীয় রুপির বিনিময় হার জানা থাকলে সম্ভাব্য খরচের হিসাব করা সহজ হয়।
প্রবাসী আয় ও ব্যক্তিগত লেনদেনে প্রভাব
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা দেশে অর্থ পাঠানোর সময় সংশ্লিষ্ট মুদ্রার বিনিময় হার বিবেচনা করেন। বিনিময় হার বাড়লে একই পরিমাণ বিদেশি মুদ্রার বিপরীতে বেশি টাকা পাওয়া যেতে পারে। তবে প্রেরিত অর্থের প্রকৃত মূল্য নির্ভর করে লেনদেনের সময়কার প্রযোজ্য হার, অর্থ স্থানান্তর পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ফি বা চার্জের ওপর।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের ক্ষেত্রেও বিনিময় হারের গুরুত্ব রয়েছে। টিউশন ফি, আবাসন, খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচের জন্য অর্থ পাঠাতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশের মুদ্রার মূল্য জানা জরুরি। একইভাবে, বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া ব্যক্তি কিংবা পর্যটকদের ভ্রমণ বাজেট তৈরিতেও এ তথ্য কাজে আসে।
ব্যাংকের বিনিময় হার কি একই থাকে?
গুগলে প্রদর্শিত বিনিময় হারকে সব ব্যাংক বা অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত লেনদেনের হার হিসেবে ধরা যাবে না। সাধারণত বৈদেশিক মুদ্রা কেনা ও বিক্রির হার আলাদা হতে পারে। নগদ মুদ্রা বিনিময়, ব্যাংক ট্রান্সফার এবং আন্তর্জাতিক কার্ড লেনদেনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হার ও চার্জে পার্থক্য দেখা যায়।
বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাহিদা-সরবরাহ, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সুদের হার এবং সংশ্লিষ্ট দেশের মুদ্রানীতির পরিবর্তন বিনিময় হারকে প্রভাবিত করতে পারে। এ কারণে দিনের বিভিন্ন সময়ে বা ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একই মুদ্রার দর এক নাও থাকতে পারে।
সতর্কতা: এখানে উল্লেখ করা বিনিময় হার তথ্যসূত্রে প্রকাশিত হিসাবের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে; এগুলোকে হালনাগাদ ব্যাংকদর হিসেবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। বড় অঙ্কের লেনদেন, বিদেশে অর্থ পাঠানো কিংবা ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ বিনিময় হার জেনে নেওয়া উচিত। মুদ্রার দর যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
