পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর হাটে আর্থিক লেনদেন নিরাপদ, সহজ ও সুশৃঙ্খল করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন এলাকার পশুর হাটসংলগ্ন নির্ধারিত ব্যাংক শাখা, উপশাখা ও অস্থায়ী বুথ ঈদের আগের দিন বুধবার রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৪ মে) এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের লেনদেন হয়ে থাকে। তাই গ্রাহকদের নিরাপদ আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যাংকিং ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।
নির্দেশনা অনুযায়ী, পশুর হাটসংলগ্ন নির্ধারিত ব্যাংক শাখা, উপশাখা এবং হাট এলাকায় স্থাপিত অস্থায়ী বুথগুলো সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চালু রাখতে হবে। এসব শাখা ও বুথের মাধ্যমে ক্রেতা, বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়ের অর্থ জমা, উত্তোলন এবং অন্যান্য ব্যাংকিং লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, খুলনা সিটি করপোরেশন, রাজশাহী সিটি করপোরেশন এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন পশুর হাট পরিচালিত হবে। এসব হাটে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ক্রেতা, বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীর উপস্থিতি ঘটে এবং সেখানে বড় অঙ্কের নগদ অর্থের লেনদেন হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, পশুর হাটে আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঈদের আগে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে নগদ অর্থ বহনের প্রবণতা বেড়ে যায়। এতে ছিনতাই, জাল টাকা, প্রতারণা কিংবা অন্যান্য আর্থিক ঝুঁকির আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে লেনদেন বাড়ানো গেলে অর্থের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, পশুর হাটের কাছাকাছি অবস্থিত ব্যাংকের শাখা ও উপশাখার পাশাপাশি হাট এলাকায় স্থাপন করা অস্থায়ী বুথ ব্যবহার করে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা যেন সহজে লেনদেন করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নগদ অর্থ জমা ও উত্তোলনের ক্ষেত্রে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
প্রতি বছর ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসে। এসব হাটে কয়েকদিন ধরে ব্যাপক বেচাকেনা চলে এবং কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন ব্যাংকিং এবং ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলেও পশুর হাটে এখনো নগদ অর্থের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। ফলে হাট এলাকায় ব্যাংকের সরাসরি উপস্থিতি ও সেবা কার্যক্রমকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যাংক শাখা ও বুথ রাত পর্যন্ত খোলা রাখার ফলে পশু ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও সাধারণ গ্রাহকরা সহজে এবং নিরাপদে অর্থ লেনদেন করতে পারবেন। একই সঙ্গে ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় বেশি সংখ্যক লেনদেন সম্পন্ন হলে নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকিও কমবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং হাট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ঈদুল আজহার পশুর হাটে আর্থিক কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়।
