কাঁচাপাট রপ্তানিকারকদের ঋণ পুনঃতফসিলে সময় বাড়ল

কাঁচাপাট রপ্তানিকারকদের শ্রেণিকৃত ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন করার সময়সীমা আরও তিন মাস বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন কাঁচাপাট রপ্তানিকারকেরা। এ সুবিধা নিতে হলে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের ভিত্তিতে শ্রেণিকৃত ঋণস্থিতির ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট জমা দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার লেটার জারি করেছে। এর ফলে আগে নির্ধারিত ৩০ জুনের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়া রপ্তানিকারকদের জন্য আরও এক দফা সুযোগ তৈরি হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কাঁচাপাট রপ্তানিকারকদের বিদ্যমান আর্থিক ও ব্যবসায়িক জটিলতা বিবেচনায় নিয়ে আগের বিভিন্ন নির্দেশনার আওতায় ঋণ বা বিনিয়োগ হিসাব পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর গ্রাহকের শ্রেণিকৃত ঋণস্থিতির ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট জমা দিয়ে ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করার কথা ছিল।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনেক রপ্তানিকারক প্রয়োজনীয় ডাউন পেমেন্ট পরিশোধ এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে পারেননি। কাঁচাপাট রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানা জটিলতার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানো হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবার আবেদনের সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

কোন ঋণে পুনঃতফসিলের সুযোগ

নতুন নির্দেশনায় কাঁচাপাট রপ্তানিকারকদের বিরূপমানে শ্রেণিকৃত ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় সাবস্ট্যান্ডার্ড (এসএস), ডাউটফুল (ডিএফ) এবং ব্যাড/লস (বিএল) শ্রেণিতে থাকা ঋণও রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের ঋণস্থিতির ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট গ্রহণের পর পুনঃতফসিলের আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ, ওই তারিখে কোনো রপ্তানিকারকের শ্রেণিকৃত ঋণের যে স্থিতি ছিল, তার ওপর ভিত্তি করেই ডাউন পেমেন্টের পরিমাণ নির্ধারিত হবে।

তবে শুধু ডাউন পেমেন্ট জমা দিলেই পুনঃতফসিল সম্পন্ন হবে না। আবেদনকারীকে আগের নির্দেশনায় নির্ধারিত অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হবে। সর্বশেষ সার্কুলার লেটারে মূলত আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে; আগের সার্কুলারে থাকা অন্যান্য শর্ত ও নির্দেশনায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

ব্যাংকগুলোকে আবেদন নিষ্পত্তি করতে হবে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে

নতুন সিদ্ধান্তে শুধু রপ্তানিকারকদের আবেদন করার সময় বাড়ানো হয়নি, ব্যাংকগুলোর জন্যও আবেদন নিষ্পত্তির একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাওয়া সব আবেদন প্রয়োজনীয় ডাউন পেমেন্ট গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। ফলে আবেদন জমা দেওয়ার পর ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নথি ও শর্ত যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এতে আগের সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে না পারা কাঁচাপাট রপ্তানিকারকেরা নতুন করে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে ৩০ সেপ্টেম্বরের পর এই বিশেষ সুবিধার আবেদনের সময় আবার বাড়ানো হবে কি না, সর্বশেষ নির্দেশনায় সে বিষয়ে কোনো ঘোষণা নেই। তাই যেসব প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা নিতে চায়, তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

সময়সীমা ও শর্ত

বিষয়নির্ধারিত তথ্য
ঋণস্থিতির ভিত্তি তারিখ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
ডাউন পেমেন্টশ্রেণিকৃত ঋণস্থিতির ২ শতাংশ
আগের আবেদনের শেষ সময়৩০ জুন ২০২৬
বাড়ানো আবেদনের সময়আরও ৩ মাস
নতুন আবেদনের শেষ সময়৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্যাংকের আবেদন নিষ্পত্তির শেষ সময়৩১ ডিসেম্বর ২০২৬
প্রযোজ্য ঋণের ধরনবিরূপমানে শ্রেণিকৃত ঋণ
সাবস্ট্যান্ডার্ডএসএস
ডাউটফুলডিএফ
ব্যাড/লসবিএল
আবেদন জমা দিতে হবেসংশ্লিষ্ট ব্যাংকে
নির্দেশনা জারি করেছেবাংলাদেশ ব্যাংক
সংশ্লিষ্ট বিভাগব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১

কাঁচাপাট রপ্তানিকারকদের জন্য সিদ্ধান্তের গুরুত্ব

কাঁচাপাট বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রপ্তানি পণ্যগুলোর একটি। এ খাতের ব্যবসায়ীদের আর্থিক সক্ষমতা অনেকাংশে রপ্তানি কার্যক্রম, বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্থপ্রাপ্তি এবং ব্যবসার স্বাভাবিক নগদ প্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। রপ্তানি কার্যক্রমে কোনো ধরনের জটিলতা দেখা দিলে তার প্রভাব ব্যবসার অর্থপ্রবাহে পড়তে পারে। এর সঙ্গে ব্যাংকঋণের কিস্তি ও অন্যান্য দায় পরিশোধের চাপও তৈরি হয়।

শ্রেণিকৃত ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগের ফলে যোগ্য রপ্তানিকারকেরা ব্যাংকের সঙ্গে বিদ্যমান ঋণ পরিশোধের কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সুযোগ পাবেন। তবে এ সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে না। নির্ধারিত ডাউন পেমেন্ট, আবেদন এবং আগের নির্দেশনায় থাকা অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।

এর আগে কাঁচাপাট রপ্তানিকারকদের শ্রেণিকৃত ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদনের সময় ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে অনেক প্রতিষ্ঠান আবেদন করতে না পারায় এবার তা আরও তিন মাস বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করেছে। সার্কুলার লেটার জারির পর থেকেই নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

মন্তব্য করুন