বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে এক কোটিরও বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিদেশে উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা, ভ্রমণ, অনলাইন আন্তর্জাতিক লেনদেন এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিদিনের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা এবং প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সর্বশেষ দর সম্পর্কে জানতে আগ্রহী থাকেন।
সোমবার (২০ জুলাই) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার সর্বশেষ বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে। এই হার সাধারণত ব্যাংক, অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান এবং বৈদেশিক লেনদেনে একটি নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে বাস্তব লেনদেনের সময় ব্যাংকের সেবামূল্য, নগদ বা টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফারের ধরন, বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা-যোগান এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতির কারণে ঘোষিত দরের সঙ্গে কিছুটা পার্থক্য দেখা যেতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রতিদিনের মুদ্রা বিনিময় হার শুধু রেমিট্যান্স গ্রহণের ক্ষেত্রেই নয়, বিদেশে শিক্ষার ফি পরিশোধ, চিকিৎসা ব্যয়, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক লেনদেন, অনলাইন পেমেন্ট এবং বিদেশ সফরের ব্যয় পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত, তাদের জন্য বিনিময় হারের পরিবর্তন সরাসরি ব্যবসার ব্যয় ও মুনাফায় প্রভাব ফেলে। একইভাবে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ দেশে কত টাকায় রূপান্তরিত হবে, সেটিও নির্ভর করে প্রচলিত বিনিময় হারের ওপর।
২০ জুলাই প্রকাশিত বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
| দেশ ও মুদ্রা | বাংলাদেশি টাকায় মূল্য |
|---|---|
| মালয়েশিয়ান ১ রিংগিত | ৩০ টাকা ২২ পয়সা |
| সৌদি ১ রিয়াল | ৩২ টাকা ৮৯ পয়সা |
| মার্কিন ১ ডলার | ১২৩ টাকা ১৬ পয়সা |
| ইউরোপীয় ১ ইউরো | ১৪৩ টাকা ৩৮ পয়সা |
| ইতালিয়ান ১ ইউরো | ১৪৩ টাকা ৩৮ পয়সা |
| ব্রিটিশ ১ পাউন্ড | ১৬৬ টাকা ১৪ পয়সা |
| সিঙ্গাপুরের ১ ডলার | ৯৫ টাকা ৯৬ পয়সা |
| অস্ট্রেলিয়ান ১ ডলার | ৮৬ টাকা ৭৫ পয়সা |
| নিউজিল্যান্ডের ১ ডলার | ৭২ টাকা ২২ পয়সা |
| কানাডিয়ান ১ ডলার | ৮৭ টাকা ৯১ পয়সা |
| সংযুক্ত আরব আমিরাতের ১ দিরহাম | ৩৩ টাকা ৬৪ পয়সা |
| ওমানি ১ রিয়াল | ৩১৯ টাকা ০৫ পয়সা |
| বাহরাইনি ১ দিনার | ৩২৭ টাকা ৮৫ পয়সা |
| কাতারি ১ রিয়াল | ৩৩ টাকা ৯৪ পয়সা |
| কুয়েতি ১ দিনার | ৪০২ টাকা ১২ পয়সা |
| সুইস ১ ফ্রাঁ | ১৪৯ টাকা ২৫ পয়সা |
| দক্ষিণ আফ্রিকার ১ রান্ড | ৭ টাকা ৪৫ পয়সা |
| জাপানি ১ ইয়েন | ০.৭৬১ টাকা |
| দক্ষিণ কোরিয়ার ১ ওন | ০.০৮২৮৮৮৯৯ টাকা |
| ভারতীয় ১ রুপি | ১ টাকা ২৪ পয়সা |
প্রকাশিত তালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উল্লেখিত মুদ্রাগুলোর মধ্যে কুয়েতি দিনার সবচেয়ে মূল্যবান। একটি কুয়েতি দিনারের বিপরীতে বাংলাদেশি মুদ্রায় দিতে হচ্ছে ৪০২ টাকা ১২ পয়সা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাহরাইনি দিনার, যার মূল্য ৩২৭ টাকা ৮৫ পয়সা। এরপর রয়েছে ওমানি রিয়াল, যার মূল্য ৩১৯ টাকা ০৫ পয়সা। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশগুলোতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত থাকায় এসব মুদ্রার মূল্য দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। বিনিময় হার অনুকূলে থাকলে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের টাকার পরিমাণও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, জাপানি ইয়েন, দক্ষিণ কোরিয়ার ওন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার রান্ড তুলনামূলকভাবে কম মূল্যের মুদ্রা হিসেবে তালিকায় রয়েছে। তবে এসব মুদ্রার একক মূল্য কম হলেও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এগুলোর গুরুত্ব কম নয়। আন্তর্জাতিক লেনদেনে প্রতিটি মুদ্রার নিজস্ব অর্থনৈতিক অবস্থান রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার কখনোই স্থির থাকে না। আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারের ওঠানামা, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার ও মুদ্রানীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি ও পণ্যের বাজার, বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা-যোগান এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতিপ্রকৃতির মতো নানা কারণে প্রতিদিনই বিনিময় হারে পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে একই দিনে ভিন্ন ব্যাংক বা অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানে সামান্য ভিন্ন দর পাওয়া অস্বাভাবিক নয়।
এ কারণে রেমিট্যান্স গ্রহণ, বিদেশে অর্থ পাঠানো, আন্তর্জাতিক শিক্ষার ফি পরিশোধ, চিকিৎসা ব্যয় মেটানো কিংবা বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ বিনিময় হার যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর সিদ্ধান্ত। এতে অপ্রয়োজনীয় আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি কমে এবং বৈদেশিক লেনদেন আরও স্বচ্ছ ও পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।
