আম বাণিজ্যে চার জেলায় শনিবার ব্যাংক খোলা থাকবে

আমের মৌসুমে ব্যবসায়িক লেনদেন স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের চার জেলায় শনিবারও সীমিত পরিসরে ব্যাংক শাখা ও উপশাখা খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোর জেলার গুরুত্বপূর্ণ আম বাজারসংলগ্ন ব্যাংকগুলো এই বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় থাকবে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠায়।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, চলমান আম মৌসুমে এসব এলাকায় স্থায়ী ও অস্থায়ী বাজারে বিপুল পরিমাণ নগদ লেনদেন হচ্ছে। কৃষক, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতিদিন বড় অঙ্কের টাকা হাতবদল হওয়ায় ব্যাংকিং সেবা সহজলভ্য রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নগদ অর্থ জমা, উত্তোলন এবং নিরাপদ সংরক্ষণের সুবিধা নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, সদর, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট; নওগাঁর সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুর উপজেলা এবং রাজশাহী ও নাটোর জেলার বিভিন্ন আম বাজারসংলগ্ন ব্যাংক শাখা ও উপশাখা আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রতি শনিবার সীমিত পরিসরে খোলা রাখা যাবে।

ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এসব কার্যক্রম পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনে অতিরিক্ত নগদ অর্থ সরবরাহ বজায় রাখা এবং গ্রাহকসেবায় কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে—এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এই অঞ্চলের আম বাণিজ্য শুধু মৌসুমি কৃষিপণ্য বিক্রির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি স্থানীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। মৌসুমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ নগদ লেনদেন হওয়ায় অনেক সময় ব্যাংকিং সময়ের বাইরেও অর্থ আদান–প্রদান চলতে থাকে। ফলে ব্যাংক বন্ধ থাকলে ব্যবসায়ীরা নগদ অর্থ ঘরে বা অন্যত্র রাখতে বাধ্য হন, যা চুরি, হারানো বা ক্ষতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং সেবা চালু থাকলে নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনা আরও নিরাপদ হয় এবং লেনদেনেও স্বচ্ছতা বাড়ে। বিশেষ করে কৃষকরা দ্রুত অর্থ হাতে পাওয়ার সুযোগ পান, যা পরবর্তী উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাকে গতিশীল রাখে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এই নির্দেশনা জারি করেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মৌসুমি বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে এমন উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এতে কৃষিপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে এবং কৃষক, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে কমে আসবে।

মন্তব্য করুন