ডলারের দাম ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রবাসী আয়, বৈদেশিক বিনিয়োগ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভ্রমণের কারণে বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত পর্যায়ের বৈদেশিক লেনদেন—বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিদিনই বিদেশি মুদ্রার প্রয়োজন হয়। ফলে বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে প্রধান আন্তর্জাতিক মুদ্রাগুলোর মূল্য ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখের উল্লেখিত বিনিময় হার অনুযায়ী, বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সা। একই দিনে ইউরোর বিনিময় হার ১৪৩ টাকা ১২ পয়সা এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য ১৬৭ টাকা ১০ পয়সা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক লেনদেনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এসব মুদ্রার দামের পরিবর্তন বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় এবং বিদেশে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রতিবেশী ভারতের মুদ্রা ভারতীয় রুপির মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১ টাকা ৩০ পয়সা। মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের বিনিময় হার ৩০ টাকা ২৩ পয়সা এবং সিঙ্গাপুরি ডলারের মূল্য ৯৬ টাকা ৩৯ পয়সা। মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও প্রবাসী আয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় সৌদি রিয়ালের মূল্যও গুরুত্বপূর্ণ। এদিন সৌদি রিয়ালের বিনিময় হার ছিল ৩২ টাকা ৮৯ পয়সা। অন্যদিকে কুয়েতি দিনারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪০২ টাকা ৮৯ পয়সা। অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৭ টাকা ৫২ পয়সা।

বৈদেশিক মুদ্রার মূল্য শুধু ভ্রমণ বা ব্যক্তিগত অর্থ লেনদেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের আমদানিকারকদের বিদেশি পণ্য, কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ও জ্বালানি কেনার ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ পরিশোধ করতে হয়। ডলারের মূল্য বাড়লে একই পরিমাণ পণ্য আমদানিতে তুলনামূলক বেশি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এর প্রভাব উৎপাদন ব্যয়, ব্যবসায়িক ব্যয় এবং কিছু ক্ষেত্রে ভোক্তা পর্যায়ের পণ্যমূল্যেও পড়তে পারে।

অন্যদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিদেশ থেকে দেশে অর্থ পাঠালে বৈদেশিক মুদ্রা টাকায় রূপান্তরের মাধ্যমে পরিবারগুলো স্থানীয় মুদ্রায় অর্থ পেয়ে থাকে। প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। রপ্তানি আয়, বিদেশি বিনিয়োগ ও অন্যান্য বৈদেশিক লেনদেনের সঙ্গে মিলিয়ে এসব প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখে।

বিনিময় হার আন্তর্জাতিক বাজারের নানা পরিবর্তনের সঙ্গে ওঠানামা করে। সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সুদের হার, মুদ্রার চাহিদা ও জোগান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতি—সবকিছুর প্রভাব এতে পড়তে পারে। ফলে এক দিনে যে হার দেখা যাচ্ছে, পরবর্তী দিনে সেটি অপরিবর্তিত থাকবে এমন নিশ্চয়তা নেই।

এ ছাড়া প্রকাশিত কোনো বিনিময় হারকে সব ধরনের লেনদেনের জন্য অভিন্ন চূড়ান্ত মূল্য হিসেবে দেখা ঠিক নয়। ব্যাংক, অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য বৈধ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মুদ্রার ক্রয় ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। লেনদেনের ধরন, পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী প্রকৃত হারও ভিন্ন হতে পারে।

তাই বিদেশি মুদ্রা কেনাবেচা, বিদেশে অর্থ পাঠানো কিংবা বৈদেশিক লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ ক্রয় ও বিক্রয় হার যাচাই করা প্রয়োজন। ১৬ আগস্টের উল্লেখিত হারগুলো মূলত দিনের একটি নির্দেশক মূল্য; প্রকৃত লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হার বাজার ও প্রতিষ্ঠানের কার্যকর মূল্যসূচির ওপর নির্ভর করতে পারে।

মন্তব্য করুন