বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় মার্কিন ডলার, ব্রিটিশ পাউন্ড, ইউরো, ভারতীয় রুপি, অস্ট্রেলিয়ান ডলার, সিঙ্গাপুর ডলার, চীনা ইউয়ান ও জাপানি ইয়েন রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিদেশে পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ, প্রবাসী আয় এবং বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এসব মুদ্রার বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ।
প্রদত্ত হিসাব অনুযায়ী, আজ মার্কিন ডলারের ক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা ১৫ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা ২২ পয়সা। অর্থাৎ ডলার কেনা ও বিক্রির হারের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে ৭ পয়সা। বৈদেশিক মুদ্রার তালিকায় ডলারের হার নিয়ে সাধারণত সবচেয়ে বেশি আগ্রহ থাকে, কারণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিভিন্ন ধরনের বৈদেশিক লেনদেনে মার্কিন মুদ্রার ব্যবহার ব্যাপক।
ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্ষেত্রে প্রতি পাউন্ডের ক্রয়মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১৬৩ টাকা ১ পয়সা। বিক্রয়মূল্য ১৬৩ টাকা ২৪ পয়সা। ফলে দুই হারের পার্থক্য ২৩ পয়সা। অন্যদিকে ইউরোর ক্রয়মূল্য ১৪০ টাকা ১৪ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৪০ টাকা ৩০ পয়সা। ইউরোর ক্ষেত্রে ব্যবধান ১৬ পয়সা।
ভারতীয় রুপির বিনিময় হার অন্য কয়েকটি মুদ্রার তুলনায় আলাদা। প্রকাশিত হিসাবে প্রতি রুপির ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্য—দুটিই ১ টাকা ২৯ পয়সা। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত দুই হারের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
অস্ট্রেলিয়ান ডলারের ক্রয়মূল্য ৮৬ টাকা ৬৫ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৮৬ টাকা ৭৯ পয়সা। সিঙ্গাপুর ডলারের ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্য ৯৬ টাকা ১৯ পয়সা ও বিক্রয়মূল্য ৯৬ টাকা ৩০ পয়সা। চীনা ইউয়ানের ক্রয়মূল্য ১৮ টাকা ৩৫ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৮ টাকা ৩৭ পয়সা। জাপানি ইয়েনের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটের ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য উভয়ই ৭৮ পয়সা।
২৬ সেপ্টেম্বরের বিনিময় হার
| মুদ্রার নাম | ক্রয়মূল্য (টাকা) | বিক্রয়মূল্য (টাকা) | ব্যবধান |
|---|---|---|---|
| মার্কিন ডলার | ১২৩.১৫ | ১২৩.২২ | ০.০৭ |
| ব্রিটিশ পাউন্ড | ১৬৩.০১ | ১৬৩.২৪ | ০.২৩ |
| ইউরো | ১৪০.১৪ | ১৪০.৩০ | ০.১৬ |
| ভারতীয় রুপি | ১.২৯ | ১.২৯ | ০.০০ |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার | ৮৬.৬৫ | ৮৬.৭৯ | ০.১৪ |
| সিঙ্গাপুর ডলার | ৯৬.১৯ | ৯৬.৩০ | ০.১১ |
| চীনা ইউয়ান | ১৮.৩৫ | ১৮.৩৭ | ০.০২ |
| জাপানি ইয়েন | ০.৭৮ | ০.৭৮ | ০.০০ |
মুদ্রার ‘ক্রয়মূল্য’ ও ‘বিক্রয়মূল্য’ এক বিষয় নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের কাছ থেকে বিদেশি মুদ্রা কিনলে যে হার ব্যবহার করে, সেটি সাধারণভাবে ক্রয়হার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আর গ্রাহকের কাছে বিদেশি মুদ্রা বিক্রির সময় যে হার প্রযোজ্য হয়, সেটি বিক্রয়হার। এ কারণেই একই মুদ্রার ক্ষেত্রে দুই ধরনের হারে কিছুটা পার্থক্য দেখা যেতে পারে।
প্রকাশিত তালিকায় সবচেয়ে বেশি ব্যবধান রয়েছে ব্রিটিশ পাউন্ডে—২৩ পয়সা। এরপর ইউরোতে ১৬ পয়সা, অস্ট্রেলিয়ান ডলারে ১৪ পয়সা, সিঙ্গাপুর ডলারে ১১ পয়সা এবং মার্কিন ডলারে ৭ পয়সা ব্যবধান রয়েছে। চীনা ইউয়ানের ক্ষেত্রে ব্যবধান মাত্র ২ পয়সা। ভারতীয় রুপি ও জাপানি ইয়েনের ক্রয়-বিক্রয় হার একই রাখা হয়েছে।
বৈদেশিক মুদ্রার হারের পরিবর্তন সাধারণ মানুষের জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য অর্থ পাঠানো, চিকিৎসার খরচ পরিশোধ, বিদেশ ভ্রমণের সময় মুদ্রা কেনা কিংবা আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায় বৈদেশিক মুদ্রার মূল্য হিসাবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে বড় অঙ্কের লেনদেনে প্রতি ইউনিট মুদ্রার সামান্য পরিবর্তনও মোট ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে প্রকাশিত বিনিময় হারকে নির্দিষ্ট সময়ের একটি নির্দেশক হার হিসেবে দেখা প্রয়োজন। ব্যাংক, অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান এবং লেনদেনের ধরন অনুযায়ী প্রকৃত গ্রাহক পর্যায়ের হার আলাদা হতে পারে। একই সঙ্গে নগদ মুদ্রা, ব্যাংকিং চ্যানেলের লেনদেন বা অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রা-সংক্রান্ত সেবায় প্রযোজ্য হারেও পার্থক্য থাকতে পারে।
তাই বিদেশি মুদ্রা কেনা বা বিক্রির আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কিংবা অনুমোদিত মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সর্বশেষ কার্যকর হার জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে শুধু তালিকাভুক্ত হার নয়, প্রযোজ্য অন্যান্য চার্জ বা শর্তও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
