সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখা থেকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নিজেদের জমা টাকা তুলতে শুরু করেছেন। সোমবার ও মঙ্গলবার—এই দুই দিনে দেশের বিভিন্ন শাখা থেকে প্রায় ১৪ হাজার গ্রাহক মোট ৬৭০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। তবে টাকা তোলার জন্য জমা পড়া আবেদনের তুলনায় প্রকৃত উত্তোলনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দুই দিনে মোট ৩৭ হাজার ৬০০ গ্রাহক ২ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেন। এর মধ্যে ১৪ হাজার গ্রাহক বাস্তবে তাঁদের আমানতের অর্থ তুলে নিয়েছেন। মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসব তথ্য জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিনে আমানত উত্তোলনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। প্রথম দিন বিভিন্ন কারণে যেসব গ্রাহক ব্যাংকে এসে টাকা তুলতে পারেননি, তাঁদের অনেকে পরদিন শাখায় গিয়ে অর্থ উত্তোলন করেছেন। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় অর্থ পরিশোধ করেছে বলেও জানান তিনি।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করা গ্রাহকদের তুলনায় বাস্তবে অর্থ তুলে নেওয়া গ্রাহকের সংখ্যা অনেক কম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক আমানতকারী ব্যাংকের সামগ্রিক লেনদেন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে শেষ পর্যন্ত টাকা না তুলেই ফিরে যাচ্ছেন। একই সময়ে বিভিন্ন শাখায় নতুন করে আমানত হিসাব খোলার ঘটনাও ঘটছে বলে তিনি জানান।
সম্প্রতি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। একীভূত হওয়ার পর পাঁচটি ব্যাংকের শাখা মিলিয়ে নতুন ব্যাংকটির মোট শাখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৬১টি। ফলে বিপুলসংখ্যক আমানতকারী ও শাখার কার্যক্রম একক ব্যবস্থাপনার আওতায় এসেছে।
একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের আমানত থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য এরই মধ্যে মোট ৭৪ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদনের বিপরীতে গ্রাহকদের মোট ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের দাবি রয়েছে। অর্থাৎ, আবেদন করা অর্থের তুলনায় এখন পর্যন্ত বাস্তবে পরিশোধ করা হয়েছে তুলনামূলকভাবে কম পরিমাণ অর্থ।
আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া সচল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক গত রোববার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করে। এরপর সোমবার সকালে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন শাখায় অর্থ পাঠানো হয়। এর ফলে শাখাগুলোতে গ্রাহকদের আমানত পরিশোধের কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়।
মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও মালিবাগ এলাকার বিভিন্ন শাখায় গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই নিজেদের সঞ্চয়ের অর্থ তুলতে ব্যাংকে আসছেন গ্রাহকেরা। অনেকেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় টাকা তুলতে সক্ষম হয়েছেন। দীর্ঘদিনের সঞ্চয় করা অর্থ হাতে পাওয়ার পর কয়েকজন গ্রাহক স্বস্তি প্রকাশ করেন। ব্যাংকের লেনদেন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকায় তাঁদের মধ্যে সন্তোষও দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনে আবেদনকারী ও প্রকৃত অর্থ উত্তোলনকারীর সংখ্যার মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। ৩৭ হাজার ৬০০ জন গ্রাহক ২ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করলেও বাস্তবে ১৪ হাজার গ্রাহক ৬৭০ কোটি টাকা নিয়েছেন। ফলে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক আবেদন করার পরও এখন পর্যন্ত তাঁদের অর্থ উত্তোলন করেননি।
ব্যাংকটির সামনে এখন বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিপুলসংখ্যক আমানতকারীর উত্তোলন আবেদন পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তি করা এবং একই সঙ্গে নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম সচল রাখা। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া অর্থের পাশাপাশি শাখাভিত্তিক অর্থ সরবরাহ ও গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী পরিশোধ কার্যক্রম কতটা ধারাবাহিক থাকে, সেটিই আগামী দিনের লেনদেন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
