বুধবারের বিনিময় হারে পাউন্ড ১৬৬, ডলার ১২২ টাকা

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিদেশে ভ্রমণ, শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি পরিশোধ কিংবা প্রবাসী আয় পাঠানোর ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোন বিদেশি মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মূল্য কত—তা জানা থাকলে বৈদেশিক লেনদেনের সম্ভাব্য ব্যয় সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া যায়। বুধবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার নির্ধারিত বিনিময় হার রয়েছে।

প্রকাশিত হারে, এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১২২ টাকা ৮৪ পয়সা পাওয়া যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক লেনদেনে বহুল ব্যবহৃত ইউরোর ক্ষেত্রে এক ইউরোর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪৩ টাকা ৭৭ পয়সা। আর ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য তালিকাভুক্ত মুদ্রাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ—এক পাউন্ডের বিপরীতে ১৬৬ টাকা ২৮ পয়সা।

এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মুদ্রার ক্ষেত্রেও আলাদা বিনিময় হার রয়েছে। এক ভারতীয় রুপির মূল্য ১ টাকা ২৯ পয়সা। চীনের ইউয়ানের ক্ষেত্রে এক ইউয়ানের বিনিময় হার ১৮ টাকা ৩১ পয়সা। জাপানি ইয়েনের একক মূল্য তুলনামূলকভাবে কম; এক ইয়েনের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার হার ৭৭ পয়সা।

অন্যদিকে, এক অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বিনিময় হার ৮৮ টাকা ৬০ পয়সা এবং এক সিঙ্গাপুরি ডলারের মূল্য ৯৬ টাকা ৭ পয়সা। ফলে তালিকায় থাকা আটটি মুদ্রার মধ্যে একক হিসাবে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য সবচেয়ে বেশি এবং জাপানি ইয়েনের মূল্য সবচেয়ে কম।

বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার হার

বৈদেশিক মুদ্রাবাংলাদেশি টাকায় বিনিময় হার
ইউএস ডলার১২২ টাকা ৮৪ পয়সা
ইউরো১৪৩ টাকা ৭৭ পয়সা
ব্রিটিশ পাউন্ড১৬৬ টাকা ২৮ পয়সা
ভারতীয় রুপি১ টাকা ২৯ পয়সা
চীনা ইউয়ান১৮ টাকা ৩১ পয়সা
জাপানি ইয়েন৭৭ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার৮৮ টাকা ৬০ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার৯৬ টাকা ৭ পয়সা

তবে প্রকাশিত এসব হারকে সব ধরনের বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ক্রয় বা বিক্রয়মূল্য হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। ব্যাংক, অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান কিংবা সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মুদ্রা কেনাবেচার সময় ক্রয় ও বিক্রয়মূল্যে পার্থক্য থাকতে পারে। একই সঙ্গে লেনদেনের ধরন, প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত রেট এবং সংশ্লিষ্ট সময়ে বাজার পরিস্থিতির ওপর প্রকৃত লেনদেনমূল্য নির্ভর করতে পারে।

বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার সাধারণত স্থির থাকে না। আন্তর্জাতিক বাজারে মুদ্রার চাহিদা ও জোগান, বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সুদের হার, বৈশ্বিক আর্থিক বাজারের ওঠানামা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতিসহ নানা কারণে একটি মুদ্রার বিপরীতে অন্য মুদ্রার মূল্য পরিবর্তিত হতে পারে। এ কারণে দিনের শুরুতে প্রকাশিত কোনো হার পরবর্তী সময়ে কিছুটা পরিবর্তিত হওয়াও স্বাভাবিক।

এই হার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের জন্য। বিদেশি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রায় মূল্য পরিশোধ করতে হয়। ফলে বিনিময় হারে পরিবর্তন হলে আমদানির মোট ব্যয়েও প্রভাব পড়তে পারে। একইভাবে বিদেশে পণ্য বা সেবা বিক্রি করা ব্যবসায়ীরা বৈদেশিক মুদ্রায় আয় পাওয়ায় বিনিময় হারের ওঠানামা তাদের হিসাবেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি, আবাসন খরচ ও অন্যান্য ব্যয় বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হলে বাংলাদেশি টাকায় মোট কত অর্থ প্রয়োজন হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট মুদ্রার কার্যকর বিনিময় হারের ওপর। বিদেশ ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে মুদ্রা বিনিময়ের আগে সর্বশেষ হার জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

বড় অঙ্কের বৈদেশিক লেনদেনে বিনিময় হারের সামান্য পার্থক্যও মোট ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিদেশে অর্থ পাঠানো, মুদ্রা কেনা বা বিক্রি, আমদানি-রপ্তানির বিল পরিশোধ কিংবা শিক্ষাব্যয় মেটানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ কার্যকর হার যাচাই করা জরুরি।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বুধবারের জন্য এসব মুদ্রার বিপরীতে উল্লিখিত বিনিময় হার প্রযোজ্য। তবে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার পরিবর্তনশীল হওয়ায় লেনদেনের সময় কার্যকর হার ভিন্ন হতে পারে। তাই কোনো আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রকাশিত হারকে প্রাথমিক নির্দেশক হিসেবে ধরে লেনদেনের ঠিক আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ রেট নিশ্চিত করাই নিরাপদ।

মন্তব্য করুন