বেক্সিমকো ফার্মার ৬৯৪ কোটি মুনাফা ঘোষণা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দেশের শীর্ষ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস গত অর্থবছরে ৬৯৪ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে। জুনে সমাপ্ত ২০২৪–২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব চূড়ান্ত করার পর কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ এই তথ্য প্রকাশ করে। একই সঙ্গে শেয়ারধারীদের জন্য মোট ২১২ কোটি টাকা নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অনুমোদনের পর অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় কেবল বার্ষিক হিসাবই নয়, বিভিন্ন প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনও চূড়ান্ত করা হয়। ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ৪ টাকা ৭৫ পয়সা নগদ লভ্যাংশ পাবেন বিনিয়োগকারীরা। মোট লভ্যাংশের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১২ কোটি টাকা।

লভ্যাংশ বণ্টনের কাঠামো অনুযায়ী কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকরা, যাঁদের হাতে মোট শেয়ারের বড় একটি অংশ রয়েছে, তারা প্রায় ৬৪ কোটি টাকা পাবেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ৫৮ কোটি টাকা। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা পাবেন প্রায় ৫৪ কোটি টাকা। সাধারণ ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের অংশে যাবে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা।

কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২ আগস্টকে রেকর্ড তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দিন যাঁদের কাছে শেয়ার থাকবে, তারাই ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য হবেন। বার্ষিক সাধারণ সভা সম্পন্ন হওয়ার পর ধাপে ধাপে এই লভ্যাংশ বিতরণ করা হবে।

সম্প্রতি কোম্পানিটির মালিকানা ও পরিচালনা কাঠামো নিয়ে বাজারে আলোচনা তৈরি হয়। শীর্ষ উদ্যোক্তা ও তাঁর পরিবারের শেয়ারধারণ ঘিরে পরিবর্তন এবং পরিচালনা পর্ষদে নতুন সদস্য নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। এর ফলে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশেও বিলম্ব ঘটে এবং বিনিয়োগকারীরা নির্ধারিত সময়ে কোম্পানির পূর্ণ আর্থিক তথ্য জানতে পারেননি।

এই বিলম্বের প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারেও পড়ে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দিতে পারায় লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের বিকল্প বিনিয়োগ বাজারে কোম্পানিটির লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী দীর্ঘ সময় লেনদেন বন্ধ থাকলে তালিকাচ্যুতির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

দেশীয় শেয়ারবাজারে আর্থিক প্রতিবেদন ও লভ্যাংশ ঘোষণার পর কোম্পানিটির শেয়ারের দামে পতন দেখা গেছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত শেয়ারের দাম নেমে আসে ১৪২ টাকায়। তবে একই সময় লেনদেনের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করে প্রতিষ্ঠানটি, যেখানে বিপুল পরিমাণ শেয়ার হাতবদল হয়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বড় অঙ্কের লভ্যাংশ ঘোষণার পরও শেয়ারের দামে ওঠানামা বিনিয়োগকারীদের স্বল্পমেয়াদি মুনাফা গ্রহণ এবং অনিশ্চয়তার প্রতিফলন হতে পারে।

মন্তব্য করুন