পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য দ্রুত ও সহজ আর্থিক লেনদেন সুবিধা নিশ্চিত করতে নতুন একটি উদ্যোগ নিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক ও মিডওয়ে সিকিউরিটিজ লিমিটেড। এ লক্ষ্যে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ট্রানজেকশন ব্যাংকিং সেবা চালুর বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। চুক্তির মাধ্যমে এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস)-ভিত্তিক ডিজিটাল ব্যাংকিং সমাধান ব্যবহার করে গ্রাহকদের অর্থ লেনদেন প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি সম্পন্ন হয়। ব্র্যাক ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও হোলসেল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান মো. শাহীন ইকবাল এবং মিডওয়ে সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশেকুর রহমান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির আওতায় মিডওয়ে সিকিউরিটিজ ব্র্যাক ব্যাংকের এপিআই-ভিত্তিক কালেকশন ও পেমেন্ট সেবা ব্যবহার করবে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকরা বিনিয়োগসংক্রান্ত অর্থ জমা, পরিশোধ এবং অন্যান্য আর্থিক কার্যক্রম আরও সহজ ও দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন।
বর্তমান সময়ে ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে পুঁজিবাজারে যেখানে সময়মতো অর্থ লেনদেন সম্পন্ন করা বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে ডিজিটাল সমাধান কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এপিআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা যায়, ফলে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় লেনদেন প্রক্রিয়া আরও স্বয়ংক্রিয় ও নির্ভরযোগ্য হয়।
এই উদ্যোগের ফলে বিনিয়োগকারীদের আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনায় সময় কম লাগবে এবং লেনদেন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে।
ব্র্যাক ব্যাংক দেশের করপোরেট ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা চালু করে আসছে। ডিজিটাল অবকাঠামো ব্যবহার করে গ্রাহকদের উন্নত আর্থিক সেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই ব্যাংকটি নিয়মিত নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। অন্যদিকে, মিডওয়ে সিকিউরিটিজ লিমিটেড পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্রোকারেজ সেবা দিয়ে আসছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দুই প্রতিষ্ঠানের এই অংশীদারত্ব পুঁজিবাজারে ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তারে নতুন সুযোগ তৈরি করবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের লেনদেন অভিজ্ঞতা আরও সহজ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত সেবার পরিধিও বাড়তে পারে। এই চুক্তি দেশের আর্থিক খাতে ডিজিটাল রূপান্তরের ধারাকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
