১৪ অক্টোবরের মুদ্রা বিনিময় হার: ডলার ১২৩.৫০ টাকা

বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রবাসী আয়, বিদেশে পড়াশোনা, চিকিৎসা এবং ভ্রমণের ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। মার্কিন ডলার, ব্রিটিশ পাউন্ড, ইউরো, ভারতীয় রুপিসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মূল্য কত, তা জানতে প্রতিদিনই আগ্রহ থাকে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও প্রবাসীদের। বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের মুদ্রা বিনিময় হার জানতে আগ্রহীদের জন্য সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার কেনার ক্ষেত্রে ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা এবং বিক্রির ক্ষেত্রে ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মুদ্রা কেনা ও বিক্রির হার প্রকাশের ক্ষেত্রে এই দুই অঙ্কের ব্যবধানের বিষয়টি লক্ষণীয়। সাধারণত কেনা ও বিক্রির হার সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিকোণ থেকে নির্ধারিত হয়। তাই লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যকর হার যাচাই করা জরুরি।

আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

প্রাপ্ত তথ্যের সর্বশেষ হালনাগাদের তারিখ ১৩ অক্টোবর ২০২৬। নিচে বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার উল্লেখিত বিনিময় হার দেওয়া হলো।

মুদ্রার নামকেনার হার (টাকা)বিক্রির হার (টাকা)
মার্কিন ডলার১২৩.৫০১২৩.৩০
ব্রিটিশ পাউন্ড১৬৩.০৭১৬৩.২৪
ইউরো১৩৮.০৫১৩৮.১২
ভারতীয় রুপি১.২৭১.২৭
অস্ট্রেলীয় ডলার৮৬.০৫৮৬.১৬
সিঙ্গাপুর ডলার৯৬.২১৯৬.৩০
চীনা ইউয়ান১৮.৪১১৮.৪২
জাপানি ইয়েন০.৭৮০.৭৮

সর্বশেষ হালনাগাদ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬।

উল্লেখিত হারগুলো সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এগুলোকে ১৪ অক্টোবরের সব ব্যাংক বা মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানে কার্যকর নিশ্চিত হার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

ডলার, পাউন্ড ও ইউরোর বিনিময় হার

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনে মার্কিন ডলারের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়ের একটি বড় অংশ ডলারে পরিশোধ করা হয়। ফলে ডলারের বিনিময় হার বাড়লে আমদানিকারকদের ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে, যা পণ্য উৎপাদন, পরিবহন এবং ভোক্তা পর্যায়ের দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

ব্রিটিশ পাউন্ড ও ইউরোর বিনিময় হারও বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের অর্থ পাঠানো, শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি পরিশোধ এবং বিদেশে চিকিৎসা বা ভ্রমণের ব্যয় নির্ধারণে এসব মুদ্রার দর বিবেচনায় নিতে হয়।

প্রকাশিত তালিকায় ব্রিটিশ পাউন্ডের কেনার হার ১৬৩ টাকা ৭ পয়সা এবং বিক্রির হার ১৬৩ টাকা ২৪ পয়সা। ইউরোর ক্ষেত্রে কেনার হার ১৩৮ টাকা ৫ পয়সা ও বিক্রির হার ১৩৮ টাকা ১২ পয়সা উল্লেখ করা হয়েছে।

রুপি, ইউয়ান, ইয়েন ও অন্যান্য মুদ্রার দর

ভারত, চীন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ের লেনদেন রয়েছে। এ কারণে এসব দেশের মুদ্রার বিনিময় হারও গুরুত্বপূর্ণ।

তালিকা অনুযায়ী, ভারতীয় রুপির হার ১ টাকা ২৭ পয়সা। চীনা ইউয়ানের কেনার হার ১৮ টাকা ৪১ পয়সা এবং বিক্রির হার ১৮ টাকা ৪২ পয়সা। জাপানি ইয়েনের ক্ষেত্রে উভয় হারই ৭৮ পয়সা দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে, অস্ট্রেলীয় ডলারের কেনার হার ৮৬ টাকা ৫ পয়সা এবং সিঙ্গাপুর ডলারের কেনার হার ৯৬ টাকা ২১ পয়সা।

তবে তালিকায় উল্লিখিত হার এবং বাস্তবে ব্যাংক বা অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জে পাওয়া হার এক নাও হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, লেনদেনের ধরন, ব্যাংকের নিজস্ব মূল্য নির্ধারণ এবং প্রযোজ্য ফি বা চার্জের কারণে গ্রাহককে ভিন্ন অঙ্ক পরিশোধ করতে হতে পারে।

মুদ্রা বিনিময়ের আগে যা জানা জরুরি

বৈদেশিক মুদ্রা কেনা বা বিক্রির আগে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

  • হালনাগাদ হার যাচাই: লেনদেনের দিন সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের কার্যকর দর জেনে নিন।

  • কেনা ও বিক্রির পার্থক্য বুঝুন: ব্যাংক বা বিনিময়কারী প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের কাছ থেকে যে দরে বৈদেশিক মুদ্রা কেনে এবং যে দরে গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে, তা আলাদা হতে পারে।

  • অতিরিক্ত খরচ বিবেচনা করুন: প্রযোজ্য কমিশন, সেবা ফি বা অন্যান্য চার্জ থাকলে মোট লেনদেনের অঙ্ক পরিবর্তিত হতে পারে।

  • লেনদেনের রসিদ রাখুন: বৈধ ও অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মুদ্রা বিনিময় করে রসিদ সংরক্ষণ করা উচিত।

  • বড় অঙ্কের লেনদেনে সতর্ক থাকুন: উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা কেনা বা বিক্রির ক্ষেত্রে একাধিক প্রতিষ্ঠানের দর তুলনা করলে সুবিধাজনক হার পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ১৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের লেনদেনের ক্ষেত্রে ১৩ অক্টোবর সর্বশেষ হালনাগাদ করা তালিকার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিশ্চিত দর যাচাই করা সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

মন্তব্য করুন