১৫ সেপ্টেম্বর বৈদেশিক মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার

আজ মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬। বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার নির্ধারিত বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রবাসী আয়, বিদেশে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয়, ভ্রমণ এবং বিভিন্ন ধরনের বৈদেশিক লেনদেনে এসব মুদ্রার দর গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডলার, পাউন্ড ও ইউরোর মতো প্রধান মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তিত হলে সংশ্লিষ্ট খাতের খরচ ও লেনদেনের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে।

প্রদত্ত বিনিময় হার অনুযায়ী, প্রতি মার্কিন ডলারের কেনার দর ১২৩ টাকা ১৬ পয়সা এবং বিক্রয়ের দর ১২৩ টাকা ২০ পয়সা। অর্থাৎ ডলারের ক্ষেত্রে কেনা ও বিক্রয়ের হারের পার্থক্য ৪ পয়সা।

ব্রিটিশ পাউন্ডের দর রয়েছে সবচেয়ে ওপরে। প্রতি পাউন্ডের কেনার হার ১৬৬ টাকা ৪৯ পয়সা এবং বিক্রয়ের হার ১৬৬ টাকা ৫৭ পয়সা। ইউরোর ক্ষেত্রে প্রতি এককের কেনার হার ১৪২ টাকা ৮৪ পয়সা এবং বিক্রয়ের হার ১৪২ টাকা ৯৩ পয়সা।

এদিকে ভারতীয় রুপির কেনা ও বিক্রয়ের হার উভয়ই ১ টাকা ২৯ পয়সা। অস্ট্রেলিয়ান ডলারের কেনার হার ৮৮ টাকা ২৮ পয়সা এবং বিক্রয়ের হার ৮৮ টাকা ৩৫ পয়সা। সিঙ্গাপুর ডলারের ক্ষেত্রে কেনার হার ৯৭ টাকা ১৯ পয়সা ও বিক্রয়ের হার ৯৭ টাকা ২২ পয়সা।

চীনা ইউয়ানের প্রতি এককের কেনার হার ১৮ টাকা ৩৫ পয়সা এবং বিক্রয়ের হার ১৮ টাকা ৩৬ পয়সা। জাপানি ইয়েনের ক্ষেত্রে প্রতি ইয়েনের কেনা ও বিক্রয়ের হার সমান—৮০ পয়সা।

১৫ সেপ্টেম্বরের প্রদত্ত দর অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত মুদ্রাগুলোর মধ্যে বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে সবচেয়ে বেশি মূল্য ব্রিটিশ পাউন্ডের। এরপর রয়েছে ইউরো, মার্কিন ডলার, সিঙ্গাপুর ডলার ও অস্ট্রেলিয়ান ডলার। অন্যদিকে ভারতীয় রুপি ও জাপানি ইয়েনের একক মূল্য তুলনামূলকভাবে কম।

তবে একটি মুদ্রার একক মূল্য অন্যটির তুলনায় বেশি হওয়াকে কোনো দেশের অর্থনৈতিক শক্তির সরাসরি মাপকাঠি হিসেবে দেখা যায় না। প্রতিটি দেশের মুদ্রার নিজস্ব একক, মূল্যমান ও বিনিময় ব্যবস্থাপনা রয়েছে। ফলে শুধু এক ইউনিট মুদ্রার বিপরীতে কত টাকা পাওয়া যাচ্ছে, সেই হিসাব দিয়ে একটি দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক অবস্থান নির্ধারণ করা যায় না।

বৈদেশিক মুদ্রার দর সাধারণত স্থির থাকে না। বাজার পরিস্থিতি, চাহিদা ও সরবরাহ, লেনদেনের ধরন এবং সময়ের ব্যবধানে বিনিময় হারে পরিবর্তন আসতে পারে। একই কারণে কোনো নির্ধারিত বা প্রকাশিত হার এবং গ্রাহকের বাস্তব লেনদেনের হারের মধ্যেও পার্থক্য দেখা দিতে পারে। নগদ বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ স্থানান্তর কিংবা নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হারও এক নয়।

বিনিময় হারের পরিবর্তনের প্রভাব সাধারণ মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনেও পড়ে। বিদেশে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও অন্যান্য ব্যয় পরিশোধের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার দর গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসার জন্য বিদেশে অর্থ পাঠানো পরিবারগুলোকেও নির্ধারিত বিনিময় হার বিবেচনায় নিতে হয়। একইভাবে বিদেশ ভ্রমণকারী বা আন্তর্জাতিক লেনদেনকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও মুদ্রার মূল্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

আমদানিকারকদের জন্য বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। বিদেশ থেকে পণ্য বা কাঁচামাল আমদানির মূল্য পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হওয়ায় বিনিময় হারের ওঠানামা আমদানি ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিদেশ থেকে অর্থ পাঠালে সেই বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তরের সময় কার্যকর বিনিময় হার অনুযায়ী প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ নির্ধারিত হয়।

তাই বৈদেশিক মুদ্রা কেনা বা বিক্রি, বিদেশে অর্থ পাঠানো কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো পেমেন্ট করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ কার্যকর হার জেনে নেওয়া প্রয়োজন। দিনের বিভিন্ন সময়ে বাজার পরিস্থিতি ও প্রতিষ্ঠানের নীতির কারণে প্রকৃত লেনদেনের হার পরিবর্তিত হতে পারে।

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর জন্য প্রদত্ত এই হারকে সেই তারিখের বিনিময় হার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। পরবর্তী সময়ে বাজার পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব মুদ্রার দরও পরিবর্তিত হতে পারে।

মন্তব্য করুন