১ আগস্টে টাকার বিপরীতে বাড়ল ডলারের মূল্য

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত এক কোটির বেশি প্রবাসী বাংলাদেশির পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বৈদেশিক মুদ্রার এই প্রবাহ দেশের আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক বাণিজ্য, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভ্রমণ ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এ কারণে প্রতিদিনের মুদ্রার বিনিময় হার সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও আর্থিক খাতের সংশ্লিষ্টদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হারে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। এদিন মার্কিন ডলারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৩ টাকা ৩৪ পয়সা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক লেনদেনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এই মুদ্রার দর দেশের আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

একই দিনে ইউরোর বিনিময় মূল্য ছিল ১৪৫ টাকা ৫ পয়সা এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য ছিল ১৬৭ টাকা ৬ পয়সা। ইউরোপীয় দেশ ও যুক্তরাজ্যে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসীর জন্য এসব মুদ্রার বিনিময় হার বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ দেশে আসার পর টাকার হিসাবে তার পরিমাণ নির্ধারণে বৈদেশিক মুদ্রার দর বড় ভূমিকা পালন করে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মুদ্রার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য মূল্য দেখা গেছে। সৌদি আরবের ১ রিয়ালের দাম ছিল ৩৩ টাকা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ১ দিরহামের মূল্য ৩৩ টাকা ৭২ পয়সা এবং কাতারের ১ রিয়ালের মূল্য ছিল ৩৪ টাকা ২ পয়সা। মধ্যপ্রাচ্যের এসব দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত থাকায় রেমিট্যান্স প্রবাহের ক্ষেত্রে এই মুদ্রাগুলোর গুরুত্ব অনেক বেশি।

সবচেয়ে বেশি মূল্যমানের মুদ্রাগুলোর মধ্যে এগিয়ে ছিল কুয়েতি দিনার। ১ কুয়েতি দিনারের বিনিময় মূল্য ছিল ৪০২ টাকা ৭০ পয়সা। এর পরেই ছিল বাহরাইনি দিনার ও ওমানি রিয়াল। ১ বাহরাইনি দিনারের মূল্য ধরা হয়েছে ৩২৮ টাকা ৬৫ পয়সা এবং ১ ওমানি রিয়ালের মূল্য ছিল ৩২০ টাকা ৫০ পয়সা।

এশিয়ার কয়েকটি দেশের মুদ্রার মূল্য তুলনামূলকভাবে কম ছিল। জাপানের ১ ইয়েনের মূল্য ছিল ০.৭৮৯ টাকা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ১ ওনের মূল্য ছিল ০.০৮৪৯৪১৯০ টাকা। ভারতের ১ রুপির মূল্য ছিল ১ টাকা ২৫ পয়সা।

প্রবাসীদের জন্য বিনিময় হার শুধু একটি সংখ্যা নয়, বরং তাঁদের পরিবারের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি বিষয়। বিদেশে উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠানোর সময় মুদ্রার দর বাড়লে একই পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে দেশে বেশি টাকা পাওয়া যায়। আবার দর কমে গেলে প্রাপকের হাতে আসা অর্থের পরিমাণও কমে যেতে পারে।

একইভাবে বিদেশে পড়াশোনা, চিকিৎসা কিংবা ভ্রমণের জন্য অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রেও বিনিময় হারের ওঠানামা ব্যয়ের পরিমাণে প্রভাব ফেলে। ব্যবসায়ীদের জন্যও আমদানি করা পণ্য, কাঁচামাল ও আন্তর্জাতিক লেনদেনের খরচ নির্ধারণে বৈদেশিক মুদ্রার দর গুরুত্বপূর্ণ।

তবে মুদ্রার বিনিময় হার স্থির থাকে না। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও সরবরাহ, আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি এবং সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে প্রতিদিন এর পরিবর্তন হতে পারে। ফলে ব্যাংক, অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লেনদেনের সময় ঘোষিত হারের সঙ্গে কিছুটা পার্থক্য দেখা দিতে পারে।

১ আগস্ট ২০২৬-এর উল্লেখিত বিনিময় হার অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের মুদ্রার মূল্য নিচে দেওয়া হলো—

দেশ ও মুদ্রাবাংলাদেশি টাকায় মূল্য
মালয়েশিয়ার ১ রিংগিত৩০ টাকা ৩১ পয়সা
সৌদি আরবের ১ রিয়াল৩৩ টাকা
মার্কিন ১ ডলার১২৩ টাকা ৩৪ পয়সা
ইউরোপীয় ১ ইউরো১৪৫ টাকা ৫ পয়সা
ইতালিয়ান ১ ইউরো১৪৫ টাকা ৫ পয়সা
ব্রিটেনের ১ পাউন্ড১৬৭ টাকা ৬ পয়সা
সিঙ্গাপুরের ১ ডলার৯৬ টাকা ৫৫ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ার ১ ডলার৮৬ টাকা ৯৮ পয়সা
নিউজিল্যান্ডের ১ ডলার৭২ টাকা ৮৭ পয়সা
কানাডার ১ ডলার৮৮ টাকা ২ পয়সা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ১ দিরহাম৩৩ টাকা ৭২ পয়সা
ওমানের ১ রিয়াল৩২০ টাকা ৫০ পয়সা
বাহরাইনের ১ দিনার৩২৮ টাকা ৬৫ পয়সা
কাতারের ১ রিয়াল৩৪ টাকা ২ পয়সা
কুয়েতের ১ দিনার৪০২ টাকা ৭০ পয়সা
সুইজারল্যান্ডের ১ ফ্রেঞ্চ১৪৯ টাকা ১৬ পয়সা
দক্ষিণ আফ্রিকার ১ রান্ড৭ টাকা ৪৫ পয়সা
জাপানের ১ ইয়েন০.৭৮৯ টাকা
দক্ষিণ কোরিয়ার ১ ওন০.০৮৪৯৪১৯০ টাকা
ভারতের ১ রুপি১ টাকা ২৫ পয়সা

বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে সামান্য পরিবর্তনও দেশের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রবাসী আয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য প্রতিদিনের বিনিময় হার সম্পর্কে ধারণা রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বড় অঙ্কের লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ ঘোষিত হার যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন