একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা জরুরি প্রয়োজনে পাবেন ১০ লাখ টাকা

তীব্র তারল্যসংকটে থাকা পাঁচটি একীভূত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চিকিৎসা কিংবা অন্যান্য যেকোনো জরুরি তাগিদে এখন থেকে ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত তোলার সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ সভায় জনস্বার্থে এই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

আগের নীতিমালায় কেবল আমানতকারীর নিজের চিকিৎসার দরুন টাকা তোলার নিয়ম চালু ছিল। তবে সংশোধিত নতুন নির্দেশনায় এই কাঠামোর পরিধি অনেক বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে নিজের পাশাপাশি মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও ভাই-বোনের চিকিৎসা খরচের জন্যও এই সুবিধা পাওয়া যাবে। তা ছাড়া সংসারের জরুরি যেকোনো প্রয়োজন মেটাতেও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় টাকা উত্তোলনের পথ উন্মুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানানো হয়, সংকটকালীন ব্যাংকে টাকা আটকে থাকায় অনেক পরিবারই চরম বিপাকে পড়েছিল। কেবল নিজের অসুস্থতা নয়, বরং পরিবারের স্বজনদের চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি কেনাকাটায় টাকা তুলতে না পেরে অনেকে অমানবিক পরিস্থিতিতে পড়েন। মূলত সাধারণ মানুষের বাস্তব ভোগান্তি কমাতেই আগের নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এই বিশেষ সুবিধা কার্যকর হবে একীভূত হওয়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য। ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করতে ও সাধারণ মানুষের আমানত সুরক্ষায় সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার এই পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে একত্রিত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে।

নতুন গঠিত এই ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার নিজেই দিচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং অবশিষ্ট ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে আমানতকারীদের শেয়ার প্রদান করা হবে। পাশাপাশি আমানতকারীদের প্রাথমিক সুরক্ষায় আমানত বিমা তহবিল থেকে দেওয়া হয়েছে ১২ হাজার কোটি টাকা। এই তহবিল ব্যবহার করে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ফিরিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। যার আওতায় ইতোমধ্যে ৮ লাখ ২২ হাজার গ্রাহকের মাঝে ৩ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা বিতরণ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে কেবল ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকেরই সাড়ে ৩ লাখের বেশি গ্রাহক পেয়েছেন প্রায় ১,৬০০ কোটি টাকা।

তবে ব্যাংকিং খাতের পরিসংখ্যান বলছে, পরিস্থিতির গভীরতা অনেক বড়। পাঁচ ব্যাংকের মোট ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার বিপরীতে জামানত রয়েছে মাত্র ৪৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা (২৪.৫৬ শতাংশ)। বিতরণকৃত ঋণের মধ্যে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ কোটি টাকাই খেলাপি, যা মোট ঋণের প্রায় ৮৭.৪৩ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগে ব্যাংকগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একীভূত ৫ ব্যাংকের বর্তমান চিত্র ও প্রধান পরিসংখ্যান

বিবরণতথ্য বা পরিমাণ
একীভূত হওয়া মোট ব্যাংক৫টি
গঠিত নতুন প্রতিষ্ঠানের নামসম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক
উত্তোলনের সর্বোচ্চ নতুন সীমা১০ লাখ টাকা
নতুন ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন৩৫,০০০ কোটি টাকা
সরকারের দেওয়া মূলধন২০,০০০ কোটি টাকা
আমানতকারীদের শেয়ারের অংশ১৫,০০০ কোটি টাকা
আমানত বিমা তহবিলের বরাদ্দ১২,০০০ কোটি টাকা
ছোট আমানতকারীদের ফেরতের সীমাসর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা
সুবিধা পাওয়া মোট আমানতকারী৮,২২,০০০০ জন
বিতরণ করা মোট অর্থ৩,৮৮৭ কোটি টাকা
ফার্স্ট সিকিউরিটির সুবিধাভোগী৩,৫০,০০০ জন
ফার্স্ট সিকিউরিটিতে দেওয়া অর্থ১,৬০০ কোটি টাকা
পাঁচ ব্যাংকের মোট ঋণ১,৯৫,০০০ কোটি টাকা
গচ্ছিত মোট জামানত৪৭,৯০০ কোটি টাকা
মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ১,৭০,৫০০ কোটি টাকা
মোট ঋণে খেলাপির হার৮৭.৪৩%

মন্তব্য করুন