ডলারের দর ১২২ টাকা ৯৪ পয়সা, বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার গুরুত্ব

বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যত গভীর হচ্ছে, ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, বিদেশে শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন—সব ক্ষেত্রেই মুদ্রার মূল্য সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই প্রতিদিনের বিনিময় হার ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারের পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে। এদিন মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মূল্য দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৯৪ পয়সা। বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এই মুদ্রার দর পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং রেমিট্যান্সের হিসাবেও।

বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী মুদ্রা ইউরোর বিনিময় হার এদিন ছিল ১৪৩ টাকা ৪৬ পয়সা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক, প্রবাসী আয় এবং বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের কারণে ইউরোর মূল্যও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের পাউন্ডের বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ১৬৫ টাকা ৪০ পয়সায়, যা প্রধান আন্তর্জাতিক মুদ্রাগুলোর মধ্যে অন্যতম উচ্চ মূল্যমান ধরে রেখেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মুদ্রার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক কর্মী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কাজ করেন, ফলে এসব দেশের মুদ্রার দর প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কুয়েতি দিনারের মূল্য ছিল সবচেয়ে বেশি—এক কুয়েতি দিনারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৪০১ টাকা ৫১ পয়সা। এছাড়া বাহরাইনি দিনারের মূল্য ৩২৭ টাকা ৮৫ পয়সা এবং ওমানি রিয়ালের মূল্য ৩১৯ টাকা ০৫ পয়সা।

বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মুদ্রার দিকেও নিয়মিত নজর থাকে। ১৪ জুলাই সৌদি রিয়ালের বিনিময় হার ছিল ৩২ টাকা ৮৯ পয়সা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম ৩৩ টাকা ৬২ পয়সা এবং কাতারি রিয়াল ৩৩ টাকা ৯৩ পয়সা। এ ছাড়া মালয়েশিয়ান রিংগিতের মূল্য ছিল ৩০ টাকা ২৫ পয়সা।

এশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রার মধ্যেও ভিন্নতা দেখা গেছে। সিঙ্গাপুর ডলারের মূল্য ছিল ৯৫ টাকা ৪৬ পয়সা, অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৮৫ টাকা ৭৩ পয়সা, কানাডিয়ান ডলার ৮৭ টাকা ০২ পয়সা এবং নিউজিল্যান্ড ডলার ৭১ টাকা ১২ পয়সা।

১৪ জুলাই ২০২৬ তারিখের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

দেশমুদ্রার নাম১ ইউনিটের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকা
মালয়েশিয়া১ রিংগিত৩০ টাকা ২৫ পয়সা
সৌদি আরব১ রিয়াল৩২ টাকা ৮৯ পয়সা
যুক্তরাষ্ট্র১ ডলার১২২ টাকা ৯৪ পয়সা
ইউরোপীয় অঞ্চল১ ইউরো১৪৩ টাকা ৪৬ পয়সা
যুক্তরাজ্য১ পাউন্ড১৬৫ টাকা ৪০ পয়সা
সিঙ্গাপুর১ ডলার৯৫ টাকা ৪৬ পয়সা
অস্ট্রেলিয়া১ ডলার৮৫ টাকা ৭৩ পয়সা
নিউজিল্যান্ড১ ডলার৭১ টাকা ১২ পয়সা
কানাডা১ ডলার৮৭ টাকা ০২ পয়সা
সংযুক্ত আরব আমিরাত১ দিরহাম৩৩ টাকা ৬২ পয়সা
ওমান১ রিয়াল৩১৯ টাকা ০৫ পয়সা
বাহরাইন১ দিনার৩২৭ টাকা ৮৫ পয়সা
কাতার১ রিয়াল৩৩ টাকা ৯৩ পয়সা
কুয়েত১ দিনার৪০১ টাকা ৫১ পয়সা
সুইজারল্যান্ড১ ফ্রেঞ্চ১৪৮ টাকা ০৬ পয়সা
দক্ষিণ আফ্রিকা১ রান্ড৭ টাকা ৪৮ পয়সা
জাপান১ ইয়েন০.৭৫৯ টাকা
দক্ষিণ কোরিয়া১ ওন০.০৮২০৬২৬০ টাকা
ভারত১ রুপি১ টাকা ২৫ পয়সা

জাপানি ইয়েন ও দক্ষিণ কোরিয়ার ওনের মূল্য তুলনামূলক কম হলেও এশিয়ার অর্থনীতিতে এই দুই মুদ্রার গুরুত্ব অনেক। প্রযুক্তি, শিল্প উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার বড় ভূমিকার কারণে এসব মুদ্রার বিনিময় হারও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলে। এদিন এক জাপানি ইয়েনের বিপরীতে বাংলাদেশি মুদ্রায় পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ০.৭৫৯ টাকা। দক্ষিণ কোরিয়ার এক ওনের মূল্য ছিল প্রায় ০.০৮২০৬২৬০ টাকা। প্রতিবেশী ভারতের এক রুপির বিনিময় মূল্য ছিল ১ টাকা ২৫ পয়সা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার কোনো স্থির বিষয় নয়। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, ডলারের চাহিদা ও সরবরাহ, দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ, আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য এবং সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে প্রতিদিন মুদ্রার মূল্য পরিবর্তিত হতে পারে।

বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার ওঠানামার প্রভাব সরাসরি বাজার ব্যবস্থায় পড়তে পারে। ডলারের দাম বাড়লে আমদানি করা পণ্য, জ্বালানি ও কাঁচামালের ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার মুদ্রার মূল্য পরিবর্তন রপ্তানিকারক ও প্রবাসী আয় পাঠানো ব্যক্তিদের সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলে।

ব্যাংক, মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিগত আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে তাই সর্বশেষ বিনিময় হার সম্পর্কে ধারণা রাখা জরুরি। বিশেষ করে ব্যবসায়ী, বিদেশে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থী, প্রবাসী পরিবার এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য সঠিক মুদ্রামূল্য জানা আর্থিক পরিকল্পনা গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

মন্তব্য করুন