বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশিত হয়েছে। এতে ১ মার্কিন ডলারের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১২২ টাকা ৮৪ পয়সা। একই দিনে ইউরোর দর ১৪৪ টাকা ৯৭ পয়সা এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৬৬ টাকা ৭৭ পয়সায়। বৈদেশিক বাণিজ্য, প্রবাসী আয়, বিদেশে পড়াশোনা ও চিকিৎসা, ভ্রমণ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এসব হার গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারের গুরুত্ব অনেক। দেশের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী নিয়মিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান। অন্যদিকে শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি, জ্বালানি, ভোগ্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য ব্যবসায়ীদের বিদেশি মুদ্রায় অর্থ পরিশোধ করতে হয়। ফলে মুদ্রার দর পরিবর্তিত হলে ব্যক্তি পর্যায়ের ব্যয় থেকে শুরু করে আমদানি-নির্ভর ব্যবসার খরচেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
১৩ আগস্টের উল্লেখযোগ্য বিনিময় হার
| মুদ্রার নাম | ১ ইউনিটের মূল্য |
|---|---|
| মার্কিন ডলার | ১২২ টাকা ৮৪ পয়সা |
| ইউরো | ১৪৪ টাকা ৯৭ পয়সা |
| ব্রিটিশ পাউন্ড | ১৬৬ টাকা ৭৭ পয়সা |
| কুয়েতি দিনার | ৪০২ টাকা ২২ পয়সা |
| বাহরাইনি দিনার | ৩২৭ টাকা ৮৬ পয়সা |
| ওমানি রিয়াল | ৩২০ টাকা ২৫ পয়সা |
| সৌদি রিয়াল | ৩৩ টাকা |
| সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম | ৩৩ টাকা ৬৫ পয়সা |
| মালয়েশিয়ান রিংগিত | ৩০ টাকা ২০ পয়সা |
| সিঙ্গাপুর ডলার | ৯৬ টাকা ৯৩ পয়সা |
| জাপানি ইয়েন | ০.৭৭৮ টাকা |
| দক্ষিণ কোরিয়ান ওন | ০.০৮৭০১৫৫৫ টাকা |
| ভারতীয় রুপি | ১ টাকা ২৫ পয়সা |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার | ৮৭ টাকা ৪১ পয়সা |
| নিউজিল্যান্ড ডলার | ৭২ টাকা ৮২ পয়সা |
| কানাডিয়ান ডলার | ৮৮ টাকা ৩৮ পয়সা |
| দক্ষিণ আফ্রিকান রান্ড | ৭ টাকা ৬৪ পয়সা |
| সুইস ফ্রেঞ্চ | ১৪৮ টাকা ৭৬ পয়সা |
প্রকাশিত হার অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত মুদ্রাগুলোর মধ্যে কুয়েতি দিনারের মূল্য সবচেয়ে বেশি—প্রতি ইউনিট ৪০২ টাকা ২২ পয়সা। এরপর রয়েছে বাহরাইনি দিনার ৩২৭ টাকা ৮৬ পয়সা এবং ওমানি রিয়াল ৩২০ টাকা ২৫ পয়সা। মধ্যপ্রাচ্যের আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রা সৌদি রিয়াল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহামের দর যথাক্রমে ৩৩ টাকা ও ৩৩ টাকা ৬৫ পয়সা।
ইউরোপীয় মুদ্রার মধ্যে ব্রিটিশ পাউন্ডের দর ১৬৬ টাকা ৭৭ পয়সা, সুইস ফ্রেঞ্চ ১৪৮ টাকা ৭৬ পয়সা এবং ইউরো ১৪৪ টাকা ৯৭ পয়সা। এশিয়ার বাজারে সিঙ্গাপুর ডলারের মূল্য ৯৬ টাকা ৯৩ পয়সা এবং মালয়েশিয়ান রিংগিত ৩০ টাকা ২০ পয়সা। ভারতের ১ রুপি ১ টাকা ২৫ পয়সায় বিনিময় হচ্ছে।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৮৭ টাকা ৪১ পয়সা, কানাডিয়ান ডলার ৮৮ টাকা ৩৮ পয়সা এবং নিউজিল্যান্ড ডলার ৭২ টাকা ৮২ পয়সায় অবস্থান করছে। জাপানি ইয়েনের মূল্য প্রতি ইউনিট ০.৭৭৮ টাকা এবং দক্ষিণ কোরিয়ান ওনের মূল্য ০.০৮৭০১৫৫৫ টাকা।
মুদ্রার বিনিময় হার সাধারণত স্থির থাকে না। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা ও জোগান, দেশের আমদানি-রপ্তানি পরিস্থিতি, প্রবাসী আয়, বৈদেশিক মুদ্রার মজুত, সুদের হার, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আর্থিক নীতির মতো নানা বিষয় বিনিময় হারে প্রভাব ফেলতে পারে। কোনো মুদ্রার চাহিদা বাড়লে তার বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার মূল্য কমতে বা বাড়তে পারে, আবার বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তনেও দ্রুত ওঠানামা দেখা দিতে পারে।
মুদ্রার দর পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হতে পারে বৈদেশিক লেনদেনে। আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে বিদেশি মুদ্রার মূল্য বাড়লে একই পরিমাণ পণ্য কিনতে তুলনামূলক বেশি স্থানীয় মুদ্রা প্রয়োজন হতে পারে। বিদেশে পড়াশোনা বা চিকিৎসার ব্যয় বহনকারী পরিবার, আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী এবং বিদেশি মুদ্রায় অর্থ পরিশোধকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও বিনিময় হারের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ।
তবে প্রকাশিত বা নির্দেশক বিনিময় হার এবং বাস্তবে ব্যাংক কিংবা অনুমোদিত মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানে কার্যকর হার এক নাও হতে পারে। লেনদেনের ধরন, প্রতিষ্ঠানভেদে নির্ধারিত মূল্য এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের বাজার পরিস্থিতির কারণে প্রকৃত ক্রয়-বিক্রয়মূল্যে পার্থক্য থাকতে পারে।
তাই বিদেশে অর্থ পাঠানো, প্রবাসী আয় গ্রহণ, ভ্রমণের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা কেনা কিংবা শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে অর্থ পরিশোধের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ কার্যকর হার যাচাই করা প্রয়োজন। ১৩ আগস্টের প্রকাশিত হারকে দিনের একটি নির্দেশক হিসেবে দেখা হলেও বাস্তব লেনদেনে প্রযোজ্য মূল্য নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সে সময়ের বাজার পরিস্থিতি।
