স্থিতিশীল মুদ্রাবাজারে ডলার ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা

বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, রেমিট্যান্স, আমদানি-রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে প্রতিদিনের মুদ্রা বিনিময় হারের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ থেকে শুরু করে শিল্পকারখানার কাঁচামাল আমদানি, বিদেশে উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা ভ্রমণ—সব ক্ষেত্রেই বৈদেশিক মুদ্রার দামের পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি অনুভূত হয়। তাই প্রতিদিনের বিনিময় হার শুধু ব্যবসায়ী বা ব্যাংকিং খাতের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচক।

বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই ২০২৬) আন্তর্জাতিক প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা না যাওয়ায় মার্কিন ডলারসহ অধিকাংশ প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার মান সীমিত পরিসরের মধ্যেই ওঠানামা করছে।

নিচে বৃহস্পতিবারের প্রধান আন্তর্জাতিক মুদ্রাগুলোর বিনিময় হার তুলে ধরা হলো—

মুদ্রার নামবাংলাদেশি টাকায় বিনিময় হার
ইউএস ডলার১২২ টাকা ৮৫ পয়সা
ইউরো১৪০ টাকা ২২ পয়সা
পাউন্ড স্টার্লিং১৬৪ টাকা ৪৪ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার৮৬ টাকা ৬৭ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার৮৫ টাকা ১১ পয়সা
চাইনিজ ইয়েন১৮ টাকা ০৪ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার৯৪ টাকা ৯২ পয়সা
ভারতীয় রুপি১ টাকা ২৮ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত৩০ টাকা ২০ পয়সা
সৌদি রিয়াল৩২ টাকা ৭৭ পয়সা
কাতারি রিয়াল৩৩ টাকা ৯০ পয়সা
কুয়েতি দিনার৩৯৭ টাকা ৪৪ পয়সা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম৩৩ টাকা ৫১ পয়সা

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নানা ধরনের চাপ থাকলেও দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে আপাতত স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদা, বৈশ্বিক বাণিজ্যের গতি, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রবণতা প্রতিদিনের বিনিময় হার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাজার তদারকি, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় নেওয়া বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিকতা বাজারে আস্থা ধরে রাখতে সহায়তা করেছে। এর ফলে ব্যাংক নির্ধারিত বিনিময় হার ও খোলাবাজারের দামের ব্যবধান আগের তুলনায় কমেছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন আরও সুশৃঙ্খল হওয়ায় আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং অন্যান্য ব্যবসায়ী তাদের ব্যয় ও অর্থপ্রবাহ পরিকল্পনায় তুলনামূলক সুবিধা পাচ্ছেন।

গত এক মাসে মার্কিন ডলারের গড় বিনিময় হার প্রায় ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এই সীমিত ওঠানামা আন্তর্জাতিক অর্থ পরিশোধ, ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তি, কাঁচামাল আমদানি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমে পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বিদেশে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী, চিকিৎসাপ্রার্থী এবং বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের পরিবারের জন্যও ব্যয় পরিকল্পনা তুলনামূলক সহজ হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ভবিষ্যতেও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, প্রবাসী আয় প্রবাহ অব্যাহত রাখা এবং বৈদেশিক লেনদেনে ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সুদের হার, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জ্বালানির মূল্য এবং মার্কিন ডলারের আন্তর্জাতিক চাহিদা-সরবরাহের পরিবর্তন ভবিষ্যতে বিনিময় হারে প্রভাব ফেলতে পারে।

ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, একই দিনে বিভিন্ন ব্যাংক ও অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানে বিনিময় হারে সামান্য পার্থক্য দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে মুদ্রার দামের পরিবর্তন, লেনদেনের সময় এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতিতে কিছুটা ভিন্নতা থাকে। তাই বিদেশে অর্থ পাঠানো, বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয়, শিক্ষার ফি পরিশোধ বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ বিনিময় হার যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর।

মন্তব্য করুন