আজ শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬। দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলার, পাউন্ড, ইউরোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময়মূল্য নিয়ে আগ্রহ রয়েছে প্রবাসী, আমদানিকারক-রপ্তানিকারক, বিদেশগামী যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের। আজকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য নির্ধারিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের সর্বশেষ আন্তঃব্যাংক তথ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর মার্কিন ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১২৩ টাকা ১০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ১২২ টাকা ৯৫ পয়সা। ওই দিনের ভারিত গড় হার ছিল ১২৩ টাকা ৩ পয়সা। এর মাধ্যমে আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের লেনদেনের একটি সাম্প্রতিক চিত্র পাওয়া যায়।
আজকের তালিকায় প্রতি একক বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য নিচে দেওয়া হলো—
| মুদ্রা | কেনা (টাকা) | বেচা (টাকা) |
|---|---|---|
| মার্কিন ডলার | ১২২.৯৫ | ১২৩.১০ |
| পাউন্ড | ১৬৬.৪৯ | ১৬৬.৮১ |
| ইউরো | ১৪৩.০১ | ১৪৩.২১ |
| ভারতীয় রুপি | ১.২৯ | ১.২৯ |
| অস্ট্রেলিয়ান ডলার | ৮৮.৭৩ | ৮৮.৮৫ |
| সিঙ্গাপুর ডলার | ৯৭.২২ | ৯৭.৩৯ |
| চীনা ইউয়ান | ১৮.৩৩ | ১৮.৩৫ |
| জাপানি ইয়েন | ০.৮০ | ০.৮০ |
প্রকাশিত দর অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত মুদ্রাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূল্য পাউন্ডের। এক পাউন্ড কেনার ক্ষেত্রে ১৬৬ টাকা ৪৯ পয়সা এবং বিক্রির ক্ষেত্রে ১৬৬ টাকা ৮১ পয়সা ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইউরো। ইউরোর ক্রয়মূল্য ১৪৩ টাকা ১ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৪৩ টাকা ২১ পয়সা।
মার্কিন ডলারের ক্ষেত্রে প্রতি ডলারের ক্রয়মূল্য ১২২ টাকা ৯৫ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১২৩ টাকা ১০ পয়সা। সেই হিসাবে ১০০ ডলারের ক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ১২ হাজার ২৯৫ টাকা, আর বিক্রয়মূল্য ১২ হাজার ৩১০ টাকা। অবশ্য ব্যাংক বা অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জে সাধারণ গ্রাহকের জন্য কার্যকর হার নির্ধারণের সময় লেনদেনের ধরন, চার্জ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মার্জিনের কারণে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে।
ভারতীয় রুপির দর রাখা হয়েছে প্রতি রুপিতে ১ টাকা ২৯ পয়সা। অস্ট্রেলিয়ান ডলারের ক্রয়মূল্য ৮৮ টাকা ৭৩ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৮৮ টাকা ৮৫ পয়সা। সিঙ্গাপুর ডলারের ক্ষেত্রে এই হার যথাক্রমে ৯৭ টাকা ২২ পয়সা ও ৯৭ টাকা ৩৯ পয়সা। চীনা ইউয়ানের ক্রয়মূল্য ১৮ টাকা ৩৩ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৮ টাকা ৩৫ পয়সা। জাপানি ইয়েনের দর প্রতি ইয়েনে ৮০ পয়সা করে ক্রয় ও বিক্রয়—দুই ক্ষেত্রেই একই রাখা হয়েছে।
বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। আমদানিকারকদের জন্য ডলারের দাম বাড়া বা কমার প্রভাব পড়ে পণ্য আমদানির খরচে। একইভাবে রপ্তানিকারক, প্রবাসী আয়গ্রহীতা এবং বিদেশে পড়াশোনা বা চিকিৎসার জন্য অর্থ পাঠাতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্যও মুদ্রার বিনিময়মূল্য গুরুত্বপূর্ণ।
মুদ্রার দর প্রতিদিন একই থাকে না। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা ও জোগান, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং আন্তঃব্যাংক বাজারের লেনদেনসহ বিভিন্ন কারণে বিনিময়মূল্যে পরিবর্তন আসতে পারে। এ কারণে কোনো একটি দিনের প্রকাশিত হারকে দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থির দর হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মার্কিন ডলারের স্পট রেফারেন্স রেট ছিল ১২৩ টাকা ১৩ দশমিক ৫৮ পয়সা। অন্যদিকে ৯ সেপ্টেম্বরের আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দর ছিল যথাক্রমে ১২৩ টাকা ১০ পয়সা ও ১২২ টাকা ৯৫ পয়সা। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে লেনদেনের ধরন ও সময়ভেদে প্রকাশিত বিভিন্ন হারের মধ্যে পার্থক্য দেখা যেতে পারে।
বিদেশি মুদ্রা কেনাবেচা বা রেমিট্যান্স-সংক্রান্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে তাই শুধু প্রকাশিত রেফারেন্স রেটের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের ওই সময়ের কার্যকর ক্রয়-বিক্রয়মূল্য জেনে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য চার্জ ও অন্যান্য শর্তও আগে যাচাই করা প্রয়োজন।
