দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও শক্তিশালী ব্যবসায়িক মডেলের নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) পরিচালন দক্ষতা, গ্রাহক আমানত, ঋণ বিতরণ এবং ব্যালান্স শিটের সম্প্রসারণসহ প্রধান সব আর্থিক সূচকে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাংকের এই শক্তিশালী অর্ধবার্ষিক আর্থিক ফলাফল ও ব্যবসায়িক পারফরম্যান্সের আনুষ্ঠানিক বিবরণ প্রকাশ করা হয়।
ঘোষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত প্রথমার্ধে ব্র্যাক ব্যাংক এককভাবে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা করেছে ১ হাজার ৩৩ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের (৬২০ কোটি টাকা) তুলনায় ৬৭ শতাংশ বেশি। সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাংকটির সমন্বিত কর-পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়ায় ১ হাজার ৪২৩ কোটি টাকায়। আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুনে ব্যাংকের এই সমন্বিত মুনাফার পরিমাণ ছিল ৯০৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে সমন্বিত প্রবৃদ্ধি ঘটেছে ৫৭ শতাংশ।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্র্যাক ব্যাংকের আমানত সংগ্রহ ও ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের গড়ের চেয়ে অনেক বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে দেখা যায়, গত বছরের জুন মাসের তুলনায় ব্যাংকের গ্রাহক আমানত ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছায় ৯৭ হাজার কোটি টাকায়। একই সময়ে ঋণ ও অগ্রিম বিতরণ ১৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৭৬ হাজার কোটি টাকায়। আমানত ও ঋণের এই যুগপৎ প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করে ব্র্যাক ব্যাংকের মোট ব্যবস্থাপনাধীন তহবিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
ডিজিটাল রূপান্তর, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ফলে ব্যাংকের পরিচালন দক্ষতা লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম অর্ধে ব্যাংকের আয়-ব্যয়ের অনুপাত (Cost-to-Income Ratio) যেখানে ছিল ৪৮ শতাংশ, ২০২৬ সালের জুনে তা কমে ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ফলে ব্যাংকের বিনিয়োগকারীদের আয়েও ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) ৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৭ পয়সায়। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (NAV) ছিল ৪৪ টাকা ৮৪ পয়সা, যা ২০২৬ সালের ৩০ জুনে উন্নত হয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ টাকা ৩৮ পয়সায়। অন্যদিকে ব্যাংক খাতের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ খেলাপি ঋণের (NPL) হার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ২.২৭ শতাংশ থেকে আরও হ্রাস পেয়ে বর্তমানে ২.০৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক মানের শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার প্রমাণ দেয়।
ব্র্যাক ব্যাংকের এই ধারাবাহিক সাফল্য সম্পর্কে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান জানান, গ্রাহকদের অটল আস্থা, কার্যকর সুশাসন এবং ব্যবসায়িক কৌশলের সঠিক বাস্তবায়নের ফলেই প্রথমার্ধে এই অসাধারণ অর্জন সম্ভব হয়েছে। উদ্ভাবনী সেবা ও সুদৃঢ় ভিত্তি বজায় রেখে ব্যাংকটি ভবিষ্যতেও এই প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রাখতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
