৬,৬৬৭ কোটি টাকার বন্ড কিনবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল করতে প্রায় ৬ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকার দুই বছর মেয়াদি সরকারি ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে আগামীকাল বুধবার (৭ অক্টোবর) রিভার্স অকশন বা বিপরীত নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষণা অনুযায়ী, নিলামে মোট ৬ হাজার ৬৬৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকার বন্ড পুনঃক্রয়ের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এসব ট্রেজারি বন্ড ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর ইস্যু করা হয়েছিল। বন্ডগুলোর কুপন হার নির্ধারিত রয়েছে ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং আগামী ৬ নভেম্বর এগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত ৫ অক্টোবর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুনঃক্রয় নিলামের ঘোষণা দেয়। একাধিক মূল্যের ভিত্তিতে রিভার্স অকশন পদ্ধতিতে বন্ড কেনা হবে। নিলামের মাধ্যমে যেসব বন্ড গ্রহণ করা হবে, সেগুলোর নিষ্পত্তির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ অক্টোবর।

যেভাবে হবে নিলাম

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, প্রাইমারি ডিলার (পিডি) হিসেবে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো সরাসরি নিলামে দরপত্র জমা দিতে পারবে। নন-পিডি ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে চলতি হিসাব রয়েছে এমন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট পিডি ব্যাংকের মাধ্যমে নিলামে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।

অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের হিসাবের জন্য প্রতিযোগিতামূলক দর দিতে পারবে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের পক্ষ থেকেও প্রতিযোগিতামূলক এবং অপ্রতিযোগিতামূলক—দুই ধরনের দরপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

প্রতিটি দরপত্রে প্রতি ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের বন্ড কত দামে বিক্রি করতে ইচ্ছুক এবং কী পরিমাণ বন্ড বিক্রি করা হবে, তা উল্লেখ করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের Financial Market Infrastructure (FMI) ব্যবস্থার মাধ্যমে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে ইলেকট্রনিকভাবে দরপত্র জমা দিতে হবে।

তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন পাওয়া গেলে সিলগালা খামে ম্যানুয়াল দরপত্র জমা দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।

কেন বন্ড পুনঃক্রয় করা হচ্ছে

সরকারি বন্ড পুনঃক্রয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট সময়ে বড় অঙ্কের ঋণ পরিশোধের চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। সংশ্লিষ্ট বন্ডগুলোর মেয়াদ আগামী ৬ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা। মেয়াদপূর্তির সময় পুরো বন্ডের অর্থ পরিশোধ করতে হলে সরকারের ওপর একসঙ্গে বড় অঙ্কের দায় তৈরি হতে পারে। এর আগেই বন্ডের একটি বড় অংশ পুনঃক্রয় করার মাধ্যমে সেই পরিশোধের চাপ ব্যবস্থাপনার মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এই কার্যক্রম সরকারের Liability Management Operation (LMO)-এর অংশ। সাধারণভাবে এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারের ঋণের মেয়াদ, পরিশোধের সময় এবং নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনা আরও নমনীয় করার সুযোগ তৈরি হয়।

বন্ড পুনঃক্রয়ের ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্যও তারল্য ব্যবস্থাপনার একটি সুযোগ তৈরি হবে। যেসব বিনিয়োগকারী মেয়াদপূর্তির আগেই তাদের সরকারি সিকিউরিটিজ বিক্রি করে অর্থের প্রয়োজন মেটাতে চান, তারা নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই সুযোগ নিতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী তারা নিজেদের বিনিয়োগের কাঠামোও পুনর্বিন্যাস করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর ইস্যু করা এই দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালের ৬ নভেম্বর। এর কুপন হার ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং বকেয়া বন্ডের পরিমাণ প্রায় ৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন আসন্ন মেয়াদপূর্তির বড় পরিশোধের চাপ কিছুটা আগে থেকেই সামাল দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে সরকারি সিকিউরিটিজ বাজারে তারল্য ব্যবস্থাপনাও আরও নমনীয় হতে পারে। সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনায় সময়মতো দায় পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবেই এই পুনঃক্রয় কার্যক্রমকে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন