প্রবাসী আয়, আমদানি-রপ্তানি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিদেশ ভ্রমণ এবং বিভিন্ন ধরনের বৈদেশিক লেনদেনে মুদ্রার বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশি টাকা দিয়ে বিদেশি মুদ্রা কেনা বা বিদেশি মুদ্রা বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তরের ক্ষেত্রে প্রতিদিনের দর জানা ব্যক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বড় অঙ্কের লেনদেনে বিনিময় হারে সামান্য পরিবর্তনও মোট ব্যয়ের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬) বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার যে বিনিময় হার দেওয়া হয়েছে, তাতে মার্কিন ডলারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২২ টাকা ৮৪ পয়সা। একই দিনে ব্রিটিশ পাউন্ডের দর ১৬৬ টাকা ৭৭ পয়সা এবং ইউরোর দর ১৪৪ টাকা ৯৭ পয়সা।
প্রদত্ত তালিকায় সবচেয়ে বেশি মূল্য রয়েছে কুয়েতি দিনারের। ১ কুয়েতি দিনারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৪০২ টাকা ২২ পয়সা। এরপর রয়েছে বাহরাইনি দিনার, যার মূল্য ৩২৭ টাকা ৮৬ পয়সা। ওমানি রিয়ালের দর ৩২০ টাকা ২৫ পয়সা। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি মুদ্রার মূল্য বাংলাদেশি টাকার তুলনায় তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
১১ আগস্টের উল্লেখযোগ্য মুদ্রার বিনিময় হার
| দেশ ও মুদ্রা | ১ ইউনিটের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকা |
|---|---|
| মালয়েশিয়ার ১ রিংগিত | ৩০ টাকা ২০ পয়সা |
| সৌদি আরবের ১ রিয়াল | ৩৩ টাকা |
| যুক্তরাষ্ট্রের ১ ডলার | ১২২ টাকা ৮৪ পয়সা |
| ইউরোপীয় ১ ইউরো | ১৪৪ টাকা ৯৭ পয়সা |
| যুক্তরাজ্যের ১ পাউন্ড | ১৬৬ টাকা ৭৭ পয়সা |
| সিঙ্গাপুরের ১ ডলার | ৯৬ টাকা ৯৩ পয়সা |
| অস্ট্রেলিয়ার ১ ডলার | ৮৭ টাকা ৪১ পয়সা |
| নিউজিল্যান্ডের ১ ডলার | ৭২ টাকা ৮২ পয়সা |
| কানাডার ১ ডলার | ৮৮ টাকা ৩৮ পয়সা |
| সংযুক্ত আরব আমিরাতের ১ দিরহাম | ৩৩ টাকা ৬৫ পয়সা |
| ওমানের ১ রিয়াল | ৩২০ টাকা ২৫ পয়সা |
| বাহরাইনের ১ দিনার | ৩২৭ টাকা ৮৬ পয়সা |
| কাতারের ১ রিয়াল | ৩৩ টাকা ৯৬ পয়সা |
| কুয়েতের ১ দিনার | ৪০২ টাকা ২২ পয়সা |
| সুইজারল্যান্ডের ১ ফ্রাঁ | ১৪৮ টাকা ৭৬ পয়সা |
| দক্ষিণ আফ্রিকার ১ র্যান্ড | ৭ টাকা ৬৪ পয়সা |
| জাপানের ১ ইয়েন | ০.৭৭৮ টাকা |
| দক্ষিণ কোরিয়ার ১ ওন | ০.০৮৭০১৫৫৫ টাকা |
| ভারতের ১ রুপি | ১ টাকা ২৫ পয়সা |
মার্কিন ডলারের দর বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমদানি ব্যয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং বিভিন্ন আন্তঃদেশীয় আর্থিক লেনদেনে ডলারের ব্যবহার ব্যাপক। একইভাবে রপ্তানিকারক ও প্রবাসী আয় গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রেও ডলারের বিনিময়মূল্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে।
ইউরোপীয় মুদ্রা ইউরোর দর ১৪৪ টাকা ৯৭ পয়সা। ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য আরও বেশি—১ পাউন্ডে ১৬৬ টাকা ৭৭ পয়সা। সুইস ফ্রাঁর দরও তুলনামূলকভাবে উঁচু, ১ ফ্রাঁ ১৪৮ টাকা ৭৬ পয়সা।
এশিয়ার মুদ্রাগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ার রিংগিতের দর ৩০ টাকা ২০ পয়সা। ভারতীয় ১ রুপির মূল্য ১ টাকা ২৫ পয়সা। জাপানি ইয়েনের দর ০.৭৭৮ টাকা এবং দক্ষিণ কোরীয় ১ ওনের মূল্য ০.০৮৭০১৫৫৫ টাকা। সিঙ্গাপুরের ১ ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯৬ টাকা ৯৩ পয়সা।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মুদ্রার দরেও পার্থক্য রয়েছে। সৌদি রিয়াল ৩৩ টাকা, কাতারি রিয়াল ৩৩ টাকা ৯৬ পয়সা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম ৩৩ টাকা ৬৫ পয়সা। প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ এসব দেশে কর্মরত থাকায় এসব মুদ্রার বিনিময় হার তাদের আয় দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সরাসরি প্রাসঙ্গিক।
অন্যদিকে অস্ট্রেলীয় ডলারের দর ৮৭ টাকা ৪১ পয়সা, কানাডীয় ডলার ৮৮ টাকা ৩৮ পয়সা এবং নিউজিল্যান্ডের ডলার ৭২ টাকা ৮২ পয়সা। দক্ষিণ আফ্রিকার র্যান্ডের মূল্য ৭ টাকা ৬৪ পয়সা।
তবে তালিকাভুক্ত এসব দরকে সব ধরনের বৈদেশিক লেনদেনের জন্য অপরিবর্তনীয় হার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মুদ্রাবাজারের চাহিদা ও জোগান, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, ব্যাংকের নিজস্ব লেনদেনমূল্য এবং লেনদেনের ধরনসহ বিভিন্ন কারণে প্রকৃত ক্রয় ও বিক্রয়মূল্যে পার্থক্য থাকতে পারে। ব্যাংক বা মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানে একই মুদ্রার ক্রয় ও বিক্রয় হারও আলাদা হতে পারে।
তাই বিদেশে অর্থ পাঠানো, প্রবাসী আয় রূপান্তর, ভ্রমণের জন্য মুদ্রা কেনা কিংবা আমদানি-রপ্তানির বড় লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ দর যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
